বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
Headline :
Desh-Bondhu Remittance Juddah Shonshod Calls for Global Unity to Protect Bangladesh’s Democracy and Sovereignty দেশ–বন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আত্মপ্রকাশ: গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অধিকার রক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান খুলনাস্থ তেরখাদা সমিতির উদ্যোগে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়ায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীসহ দুইজন আটক ‎চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর ড. মিজানুর রহমানের ৫৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা মিশরে আজহারীর সঙ্গে ছাত্রদের হৃদ্যতা উখিয়ায় বিশেষ অভিযানে ৮০ বোতল চোলাই মদসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার মহিষাবান ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ধানের শীষের নির্বাচনী গণসংযোগ ডিএনসির মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ জন আটক, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড মনোহরগঞ্জে ভোট কেন্দ্র রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত

মিশরে আজহারীর সঙ্গে ছাত্রদের হৃদ্যতা

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান

মিশরের কায়রোতে প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্রদের মাঝে এক স্মরণীয় ও আবেগঘন বিকেল উপহার দিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তাঁর মিশর আগমন উপলক্ষে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মিশরীয় সময় বিকেল ৪টায় কায়রোর ওয়াটার ক্লাবে  বাংলাদেশি ছাত্রদের সংগঠন ইত্তেহাদ-এর উদ্যোগে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। তিলাওয়াত পরিবেশন করেন মাওলানা শোয়াইব আল-আজহারী। এরপর অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন ইত্তেহাদের সভাপতি নেমান আজহারী। তিনি বলেন, ড. মিজানুর রহমান আজহারী আজহারি ছাত্রদের কাছে কেবল একজন বক্তা নন, তিনি অনুপ্রেরণা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের এক জীবন্ত উদাহরণ।

স্বাগত বক্তব্যের পর ইত্তেহাদের পক্ষ থেকে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

এরপর মূল আলোচনায় ড. মিজানুর রহমান আজহারী তাঁর মিশর জীবনের স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তিনি ২০০৮ সালে মিশরে আগমন করেন এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস ‘বুঊস’-এ অবস্থান করতেন। তিনি বলেন, আল-আজহারের হোস্টেল দুনিয়ার বুকে যেন এক টুকরো জান্নাত। ছাত্ররা ঘুম থেকে ওঠার আগেই সকালের নাস্তা প্রস্তুত থাকে, দুপুরে খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না, আর মাস শেষ হওয়ার আগেই মিনহা—স্কলারশিপের ভাতা একাউন্টে পৌঁছে যায়।

তিনি আরও বলেন, আজও তিনি তাঁর মিশরের ছাত্রজীবন গভীরভাবে মিস করেন। কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ ও বই সংগ্রহের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, এখন ইচ্ছা থাকলেও সেই সুযোগ আর আগের মতো হয় না।

নিজের শিক্ষা জীবনের শিকড়ের কথা স্মরণ করে ড. আজহারী বলেন, দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রতি তাঁর ভালোবাসা অনন্য। মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে এক স্মৃতিময় আলাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন—তুমি তো আমাকে বিপদে ফেলেছ, এখন সবাই আজহারী হতে চায়।”

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মিশরে বাংলাদেশি ছাত্রদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এক সময় যেখানে আজহারী ছাত্রের সংখ্যা ছিল মাত্র তিনশত, বর্তমানে তা প্রায় পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি স্কলারশিপ ব্যবস্থার উন্নতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আগে যেখানে ভাতা ছিল ১০০ মিশরীয় পাউন্ড, এখন তা বেড়ে ১৫০০ পাউন্ডে উন্নীত হয়েছে।

ছাত্রদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা, সময় ও সুযোগকে কাজে লাগাও। নিজেকে গড়ে তোলো। বর্তমান সময়ে দেশে দাওয়াতের ময়দান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।”

একজন শিক্ষার্থীর সফলতার জন্য তিনটি মৌলিক গুণ অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন—বিনয়, সফর ও সবর। বিনয় মানুষকে উচ্চতায় পৌঁছায়, সফর চিন্তার পরিধি প্রসারিত করে, আর সবর লক্ষ্য অর্জনের শক্তি জোগায়।

আলোচনার শেষাংশে ড. মিজানুর রহমান আজহারী উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং আল্লাহর কাছে এই দাওয়াতি পথচলাকে কবুল করার আবেদন জানান।

অনুষ্ঠানটি শেষ হয় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ, পারস্পরিক আলাপ ও আন্তরিক প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। পুরো আয়োজনজুড়ে ছাত্রদের চোখে-মুখে ছিল প্রেরণা, গর্ব ও ভবিষ্যতের দায়িত্ববোধের দীপ্তি।

লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category