শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
Headline :
রংপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেত্রী প্রমা গ্রেপ্তার অফিসে নয়, পরিচ্ছন্ন মোহনগঞ্জ গড়তে মাঠে ইউএনও আমেনা খাতুন,, নাগেশ্বরীতে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, অস্ত্রোপাচারে অবহেলার অভিযোগ এম সাইফুর রহমান, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ ১৭/১০/২০২৬ইং হোটেল প্যান প্যাসিফিকে ‘গ্রীন ডায়ালগ- জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ সামিট অনুষ্ঠিত: ববি উপাচার্যের অংশগ্রহণ। সাংবাদিকদের ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ, ঢাকা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বরপ্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক পদ্ম ফুলের সৌন্দর্যের নীলাভূমি নাগেশ^রীর ডাকনিরপাট পদ্মবিল প্রথম স্ত্রীর কথা জানার পরিণতি, পরিকল্পিত হত্যার শিকার শিকলবাহার জান্নাতুল পানছড়িতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবির ড্রোন নজরদারি ও সার্বক্ষণিক টহল মহপরিচালক বরাবর পলাশবাড়ী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার দূর্ণীতির অভিযোগকারীকে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর অভিযোগ

৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের বিরোধীরা ৭১-এ বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল,তারাই ইতিহাসের খুনি-রাজাকারদের ‘শহীদ’ বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

Update : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ

বিএনপি- জামায়তের ইতিহাসকে বিকৃত করার রাজনীতি নতুন কিছু না। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, যখন রাজাকার রাজনীতির উত্তরসূরীরা নিজেদের অতীত লুকাতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করে।খবর আইবিএননিউজ।

আজ যারা আব্দুল মালেককে “শহীদ” বানিয়ে তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের আগে ইতিহাসের আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা উচিত। আব্দুল মালেক ছিল তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মী, যে সংগঠন ছিল আইয়ুব-ইয়াহিয়ার শাসনের পক্ষে এবং ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থানকারী শক্তি। সেই ছাত্রসংঘই পরবর্তীতে নাম পাল্টে ইসলামী ছাত্রশিবির হয়।

তখনকার উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন বানচাল করতে গিয়ে সংঘর্ষে নিহত হয় মালেক। অথচ আজ তাকে “শহীদ” বানিয়ে ইতিহাসকে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন হলো, যারা বলে “৭১ সালে ছাত্রশিবির ছিল না”, তারা আবার কিভাবে সেই ছাত্রসংঘের কর্মী মালেককে নিজেদের আদর্শিক শহীদ হিসেবে তুলে ধরে?

বাস্তবতা হলো, ১৯৭১ সালে জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। গোলাম আজম, নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লারা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়ে গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে। আলবদর বাহিনী গঠন করে নিজামী। অথচ আজ সেই নিজামী, আজহার, গোলাম আজমদের এরা “মজলুম” বানায়, আর ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা তোফায়েল আহমেদকে “খুনি” বলে!

এই দ্বিচারিতা শুধু রাজনৈতিক না, এটা আদর্শিক প্রতারণা।

ইতিহাস সাক্ষী, ৮০-এর দশক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাস, ব্রাশফায়ার, খুন, ম্যানহোলে লাশ ফেলে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা বহুবার ঘটেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি, রাবি সব জায়গার রক্তাক্ত ইতিহাস এখনো মানুষের স্মৃতিতে আছে। অথচ সেই ইতিহাস আড়াল করে আজ তারা নিজেদের “নির্যাতিত” সাজানোর নাটক করছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এরা সবসময় নিজেদের অপরাধীদের “শহীদ” আর অন্যদের “খুনি” বানানোর এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেছে। রাজাকারদের নিয়ে কান্নাকাটি করবে, যুদ্ধাপরাধীদের বীর বানাবে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা মানুষদের বিরুদ্ধে বিষ ছড়াবে।

তোফায়েল আহমেদ ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তাই রাজাকার রাজনীতির উত্তরসূরীদের চোখে তিনি কখনোই গ্রহণযোগ্য হবেন না। কারণ তাদের রাজনীতি সবসময় স্বাধীন বাংলাদেশবিরোধী চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, আজও এই দেশকে সেই রাজাকার আদর্শের উত্তরসূরীদের বিষাক্ত প্রচারণা সহ্য করতে হচ্ছে। যারা একসময় বাংলাদেশ চায়নি, আজ তারাই ইতিহাসের মালিক সাজার অভিনয় করছে।

কিন্তু ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। সত্য শেষ পর্যন্ত সত্যই থাকে।


More News Of This Category