বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline :
দিনাজপুরে পুলিশ সার্জেন্টের সাহসিকতায় অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার-২======= তানভীর আহাম্মেদ, রিপোর্টার : সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগের প্রতিবাদ চেয়ারম্যানের দিনাজপুরে শিশু রুহি হত্যা: মা ও কথিত প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩, কঙ্কাল উদ্ধার সিরাজগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী বকুলের ওপর হামলা, সংবাদ সম্মেলনে প্রাণনাশের অভিযোগ ২৩ সেপ্টেম্বর সৌদি জাতীয় দিবস: যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বর্তমান সৌদি আরব। মো: পারভেজ (১৩) পিতা: ওহেদুল( সিএনজি চালক) ❝লালমনিরহাটে ৩ কেজি গাঁজাসহ রাজশাহীর যুবক গ্রেপ্তার❞ জাতীয় দৈনিক সময় বায়ান্ন’র বার্তা সম্পাদক কামাল উদ্দিন জয়-এর সাংবাদিকতা পথচলা পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জে বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল বান্দরবানে বিজিবির মেডিকেল ক্যাম্প: দুর্গম সীমান্তের দেড় শতাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পেলেন বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ

২৩ সেপ্টেম্বর সৌদি জাতীয় দিবস: যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বর্তমান সৌদি আরব।

Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৩ সেপ্টেম্বর সৌদি জাতীয় দিবস: যেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বর্তমান সৌদি আরব।

মো লুৎফুর রহমান রাকিব
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি

প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে পালিত হয় জাতীয় দিবস। ১৯৩২ সালের এই দিনে মহামান্য বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সউদ, যিনি ইবনে সউদ নামেও পরিচিত, আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন বিভক্ত অঞ্চলকে একত্রিত করে ‘কিংডম অব সৌদি আরব’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। আয়তনের দিক থেকে বর্তমান সৌদি আরব প্রায় ১৬টি বাংলাদেশের সমান।

তবে সৌদি আরবের ইতিহাস নিয়ে অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, উসমানীয় খেলাফত ভেঙে দেওয়ার পেছনে সৌদি আরবের হাত ছিল। ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহ অবশ্য বিষয়টিকে এভাবে দেখায় না।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যে ‘গ্রেট আরব রিভোল্ট’ বা আরব বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল, সেটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মক্কার শরিফ হুসাইন বিন আলী। মহামান্য বাদশাহ আবদুল আজিজ আল সউদ সেই বিদ্রোহের অংশ ছিলেন না এবং তিনি এর নেতা বা প্রধান অংশীদারও ছিলেন না।

ইবনে সউদের মূল রাজনৈতিক ও সামরিক লড়াই ছিল আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন স্থানীয় শক্তি, গোত্র ও শাসকদের সঙ্গে। ধীরে ধীরে তিনি বিভিন্ন অঞ্চলকে নিজের নেতৃত্বের অধীনে নিয়ে আসেন এবং সেগুলোকে একত্র করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেন।

অন্যদিকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন ছিল একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন—সবকিছু মিলেই উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উসমানীয়রা কখনোই পুরো আরব উপদ্বীপ শাসন করেনি। তাদের নিয়ন্ত্রণ মূলত হিজাজের মক্কা, মদিনা, জেদ্দা ও তায়েফ এবং পূর্বাঞ্চলের আল-আহসার কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল।

অন্যদিকে রিয়াদসহ মধ্য আরবের বিস্তীর্ণ নজদ অঞ্চল উসমানীয়দের সরাসরি শাসনের অধীনে ছিল না।

সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাস আরও পুরোনো

বর্তমান সৌদি আরব একদিনে তৈরি হয়নি। এর ইতিহাস শুরু হয় ১৭৪৪ সালে। সে সময় দিরইয়াহকে কেন্দ্র করে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সেই রাষ্ট্রের পতন ঘটে। এরপর দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র গড়ে উঠলেও সেটিও ১৮৯১ সালে পতনের মুখে পড়ে।

এরপর ১৯০২ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সউদ রিয়াদ পুনর্দখল করেন। সেখান থেকেই তিনি আবার সৌদি রাষ্ট্র গঠনের কাজ শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি ধীরে ধীরে নজদ, হিজাজ, মক্কা, মদিনাসহ আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলকে নিজের নেতৃত্বের অধীনে নিয়ে আসেন এবং একীভূত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন।

অবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ সালে এসব অঞ্চলকে একত্র করে আনুষ্ঠানিকভাবে Kingdom of Saudi Arabia—সৌদি আরব রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এই ঐতিহাসিক একীকরণের স্মরণেই প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর সৌদি জাতীয় দিবস পালন করা হয়।

আজকের সৌদি আরব তার ইসলামী ঐতিহ্যকে ধরে রেখে একই সঙ্গে একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলছে। মক্কা-মদিনার পবিত্র স্থানগুলোর সেবা এবং হাজি-ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বিশাল অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও নতুন নতুন শিল্পেও দেশটিতে ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে.


More News Of This Category