সুজাতপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগিদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার
বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগিদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সুজাতপুর যুব কমিটি। শনিবার বিকেলে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। যুব কমিটির সভাপতি শেখ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন চৌধুরীর পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মমিন মিয়া, শাহ জাহাঙ্গীর মেম্বার, কাজল মিয়া, ইউপি সদস্যা সুরাইয়া চৌধুরী, মাসুক মিয়া, শেখ জাহাঙ্গীর প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন-দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছেন সুজাতপুর গ্রামের কাউছার মিয়া, জাহির মিয়া ও সাব্বির মিয়া। গত ১৫ জুলাই যুব কমিটির নেতৃবৃন্দ হাতে-নাতে কাউছার মিয়াকে আটক করেন।
পরবর্তীতে তার স্বজনরা আর এ ধরণের কর্মকান্ড ভবিষ্যতে করবে না বলে ছাড়িয়ে নেন। গত ১৬ আগস্ট বেলা ২ টায় দিকে যুব কমিটির নেতৃবৃন্দ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংবাদ পান ইকরাম থেকে কাউছার মিয়া, জাহির মিয়া ও সাব্বির মিয়া ইয়াবা নিয়ে আসছেন। সাথে সাথে তারা সুইচ গেইট এলাকায় তাদেরকে আটক করে বাজারে নিয়ে আসেন। বাজারে নিয়ে পর তাদের স্বজনরা যুব কমিটির নেতৃবৃন্দও গ্রামবাসীর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদেরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের স্বজনদের সাথে যুব কমিটি নেতৃবৃন্দের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনারস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে বিকেল ৪টার দিকে যুব কমিটির এক সদস্য কে মাদক ব্যবসায়ী জাহির মিয়ার চাচা স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মজলিশ মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে আসলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে আটক করে মারধোর করেন।
এ খবর পেয়ে যুব কমিটির নেতৃবৃন্দরা তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে তাদের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের পূনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মজলিশ মিয়া আশ্রয় প্রশ্রয়ে তার ভাতিজা কাউছার মিয়াসহ আত্মীয় স্বজনরা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু মাদক ব্যবসা নয়, তারা এলাকায় বিভিন্ন ধরণের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই মাস পূর্বে তারা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মহিতুষ বণিকের ছেলেকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে গলায় অস্ত্র ধরে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষমা চেয়ে মজলিশ তার ভাতিজা জাহিদ হাসান মহল. ও নাতি খেজু মিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
কিন্তু মজলিশের স্বজনদের অপরাধ মূলক কর্মকান্ড বন্ধ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।