সালিশ ও আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জমিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা কৃষিজমিতে চাষাবাদে বাধা, জমি দখলের অপচেষ্টা এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদন করেছেন মো. রফিকুল শেখ। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশে অভিযোগকারীর শ্বশুরের পক্ষে রায় এবং আদালতের সিদ্ধান্ত থাকার পরও বিবাদীরা তা অমান্য করে হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
থানায় দাখিল করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল শেখ একই গ্রামের মো. জাকারিয়া হাওলাদার ও মো. হারুন শেখের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছে। কিন্তু জমিটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিবাদীরা বিভিন্ন সময় বাধা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।
অভিযোগকারী মো. রফিকুল শেখ বলেন,
“বিষয়টি নিয়ে বারবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে। প্রতিটি সালিশেই রায় আমার শ্বশুর গনি শেখের পক্ষে এসেছে। এরপরও বিবাদীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতও জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আমার শ্বশুরের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্ত ও সালিশের রায় অমান্য করে তারা এখনো আমাদের জমিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, গত ২ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে বিবাদীরা বাধা দেন। এতে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখল নিশ্চিত করতে তিনি ইন্দুরকানী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। ঘটনার বিবারনে জানা যায়। ভুলবশত বি এস ১৫১৭ নং খতিয়ানের ৫৬৮৫ নং দাগের ৩৩ শতক জমি মনিরুল ইসলামের ভোগ দখলে থাকা অবস্থায় ভুল করেন। এমত অবস্থায় পিরোজপুর এন্ড সার্ভিস ট্যাবুনালে কেস করেন। যার নং ২৩৭/২০২৩। এছাড়া সকল সালিশ ব্যবস্থা ও আদালতে মোঃ মনিরুল ইসলামের পক্ষে রায় দেয়। অথচ বিবাদীগণ জবরদখল করে জমিটি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে। যেকোনো মুহূর্তে ভুক্তভোগী পরিবারের জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে।এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান সুষ্ঠু তদন্ত করে বিষয়টি সুরাও করার চেষ্টা করছি।