সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে নিজের অফিসের বাস্তব চিত্র দেখলেন ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম আপনাকে স্যালুট,,,
মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র স্টাফ রিপোটার দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র স্টাফ রিপোটার,,
ঢাকার জেলা প্রশাসনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়—ফরিদা খানম ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি)। ২৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর জনবান্ধব ও স্বচ্ছ প্রশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনায় দাবি করা হচ্ছে, উত্তরখান ভূমি অফিসে তিনি সাধারণ মানুষের মতো পরিচয় গোপন করে গিয়ে সেবার বাস্তব পরিস্থিতি দেখেছেন। উদ্দেশ্য ছিল—অফিসে সাধারণ মানুষ কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেবা নিতে গিয়ে কোথাও অযথা হয়রানি বা বিলম্ব হচ্ছে কি না, সেটি সরাসরি বোঝা।
কারণ, বড় কোনো কর্মকর্তা আগেভাগে জানিয়ে পরিদর্শনে গেলে অনেক সময় অফিসের স্বাভাবিক চিত্রটি পুরোপুরি বোঝা কঠিন হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে, তাদের মতো করে প্রশ্ন করলে সামনে আসতে পারে বাস্তব অভিজ্ঞতা।
জানা যায়, সেখানে তিনি মিউটেশনের প্রক্রিয়া, সরকারি ফি এবং সেবা নিতে সাধারণ মানুষকে কী কী ধাপ পার হতে হয়—এসব বিষয়ে খোঁজ নেন। পাশাপাশি উপস্থিত মানুষের সঙ্গেও কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা বোঝার চেষ্টা করেন বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
সবশেষে নিজের পরিচয় প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের সাধারণ মানুষকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করার কথাও বলা হচ্ছে।
ঢাকার ডিসি হিসেবে ফরিদা খানমের নিয়োগটি অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। সরকারি তথ্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁকে ঢাকা জেলার প্রথম নারী ডিসি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এর আগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ভূমি প্রশাসন। মিউটেশন, রেকর্ড সংশোধন, ভূমি-সংক্রান্ত মামলা ও সরকারি জমি ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোতে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
প্রশাসনের বড় কর্মকর্তারা যদি নিয়মিত মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সরাসরি বোঝার চেষ্টা করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো নীতিনির্ধারণ ও সেবা ব্যবস্থাপনায় আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্দিষ্ট ‘ছদ্মবেশে পরিদর্শন’-এর দাবিটির সব বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়, প্রচারিত/দাবিকৃত ঘটনা হিসেবেই দেখা ভালো।
জনগণের কষ্ট বুঝতে হলে কখনো কখনো জনগণের কাতারেই দাঁড়াতে হয়—এই ভাবনাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার কী মত? সরকারি অফিসের সেবা ও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতে এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন আরও বাড়ানো উচিত কি না—কমেন্টে জানান।