বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
Headline :
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি থানা পুলিশ কর্তৃক সিআর পরোয়ানাভু্ক্ত ০১ জন আসামী গ্রেফতার। শিরোনাম:* লিজা আক্তারের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত গজীপুর জেলার কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ফ্যান উপহার গাইবান্ধায় জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রংপুরে ১৭ তরুণীর হাতে বিনামূল্যে ল্যাপটপ হস্তান্তর: চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ১২ নং খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার ৭ নং এলাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ খান

শিশুর কণ্ঠে ‘আমার সোনার বাংলা’, বাস্তবে কতটা নিরাপদ তার শৈশব? জাতীয় সংগীতের মর্যাদা থেকে শিশু অধিকার—একটি রাষ্ট্রের মানবিকতার প্রকৃত পরীক্ষা তার শিশুদের জীবনেই

Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

শিশুর কণ্ঠে ‘আমার সোনার বাংলা’, বাস্তবে কতটা নিরাপদ তার শৈশব?
জাতীয় সংগীতের মর্যাদা থেকে শিশু অধিকার—একটি রাষ্ট্রের মানবিকতার প্রকৃত পরীক্ষা তার শিশুদের জীবনেই

মতামত

মোঃ রুহুল আমিন :

“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”—এই গানের প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে মিশে আছে দেশের প্রতি ভালোবাসা, প্রকৃতির মমতা ও মানুষের আত্মিক বন্ধন। কিন্তু যে শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সংগীত ধ্বনিত হয়, তার জীবন যদি অনিরাপত্তা, বৈষম্য, ক্ষুধা, নির্যাতন কিংবা শিক্ষাবঞ্চনার ভারে নুয়ে পড়ে, তবে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসার প্রয়োজন আছে কি না—সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

জাতীয় সংগীত কেবল একটি রাষ্ট্রের পরিচয় নয়; এটি তার ইতিহাস, আত্মপরিচয়, আবেগ ও সম্মিলিত চেতনার প্রতীক। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪ অনুচ্ছেদে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের প্রথম ১০ পঙ্‌ক্তিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই গানের সুরে আমরা যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখি, সেই বাংলার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার শিশুরা।

তবু একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়—যে শিশুরা আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে, তাদের আজকের জীবন কতটা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়?

শিশু মানে শুধু একটি কোমল মুখ, নিষ্পাপ হাসি কিংবা বিদ্যালয়ের পোশাক পরা একটি প্রাণ নয়। শিশু মানে একটি অসমাপ্ত সম্ভাবনা, একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি সমাজের ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রের আগামী দিনের ভিত্তি। তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মানবিক ও সামাজিক কাঠামো কতটা দৃঢ় হবে।

অধিকার কাগজে নয়, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক :

বাংলাদেশে শিশু অধিকার সুরক্ষায় আইন, নীতিমালা ও বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদেও শিশুর বেঁচে থাকা, বিকাশ, সুরক্ষা ও অংশগ্রহণের অধিকার স্বীকৃত। কিন্তু অধিকার স্বীকৃত হওয়া এবং প্রতিটি শিশুর জীবনে সেই অধিকার নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়।

ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু জরিপের আগের এক মাসে শারীরিক শাস্তি অথবা মানসিক আগ্রাসনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্মনিবন্ধনের হার ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যানের প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে বাস্তব জীবনের কোনো শিশু—যে হয়তো শাসনের নামে আঘাত সহ্য করছে, বিদ্যালয়ের বদলে কর্মক্ষেত্রে সময় কাটাচ্ছে, কিংবা জন্মের পরও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের পূর্ণ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

তথ্যগুলো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; বরং সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের জন্য আরও কার্যকর সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

শৈশব কি কেবল বড়দের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার নাম?
আমাদের সমাজে অনেক সময় শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। পরিবারের সিদ্ধান্ত, বিদ্যালয়ের শাসন কিংবা সামাজিক প্রত্যাশার সামনে তার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা আড়ালে পড়ে যায়। শিশুর ভুল হলে সংশোধনের পরিবর্তে অপমান, ভয় দেখানো কিংবা শারীরিক শাস্তিকে শাসনের স্বাভাবিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতাও দেখা যায়।

অথচ শাসন আর নির্যাতন এক নয়। শিশুকে নিয়ম শেখানো প্রয়োজন, কিন্তু সেই শিক্ষা যেন তার আত্মসম্মান ভেঙে না দেয়। শৃঙ্খলা শেখাতে হবে, তবে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে নয়; দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে হবে, কিন্তু অপমানের বিনিময়ে নয়।

একটি শিশু ভুল করলে তার পাশে দাঁড়ানো, ভুলের কারণ বোঝা এবং তাকে সঠিক পথ দেখানোই দায়িত্বশীল অভিভাবকত্ব ও শিক্ষাদানের পরিচয়। কারণ ভয় হয়তো সাময়িকভাবে শিশুকে নীরব করতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা, যুক্তি ও মর্যাদা তাকে সঠিক মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।

দারিদ্র্য, শিশুশ্রম ও হারিয়ে যাওয়া শৈশব :

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শিক্ষার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিশু উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বহু পরিবারের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তবু উন্নয়নের সুফল সব শিশুর কাছে সমানভাবে পৌঁছেছে—এমন দাবি করা কঠিন।

কোনো শিশু যখন পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করতে গিয়ে বিদ্যালয় থেকে দূরে সরে যায়, তখন তার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত কাজ করে না; সেখানে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতি ও সুযোগের অসমতাও ভূমিকা রাখতে পারে।

শিশুশ্রম বন্ধের আহ্বান জানানো সহজ, কিন্তু যে পরিবারের খাবার জোগাড় করাই প্রতিদিনের সংগ্রাম, তাদের বিকল্প সহায়তা নিশ্চিত না করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন। তাই শিশুশ্রম প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষাব্যয় সহায়তা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিপজ্জনক ও শোষণমূলক কাজে শিশুদের নিয়োগ বন্ধে কার্যকর নজরদারি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা জরুরি।

কোনো শিশুর হাতে বই থাকার কথা, অথচ তার হাতে যদি জীবিকার বোঝা তুলে দেওয়া হয়, তবে সেই বাস্তবতা শুধু একটি পরিবারের নয়—সমাজের সামগ্রিক দায়িত্ববোধেরও পরীক্ষা।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু: করুণার নয়, মর্যাদা ও সুযোগের অধিকারী :

প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনেও রয়েছে নানা ধরনের বাধা। কোথাও পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবার অভাব, কোথাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশগম্যতার সীমাবদ্ধতা, আবার কোথাও সামাজিক কুসংস্কার ও অবহেলা তাদের সম্ভাবনার পথ সংকুচিত করে।

কোনো শিশুর শারীরিক বা বিকাশগত সীমাবদ্ধতা তার মানবিক মর্যাদা কিংবা অধিকারকে কমিয়ে দেয় না। প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, চিকিৎসা, পুষ্টি ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

এ ধরনের পরিবারের দুর্দশা তুলে ধরার সময় সংবাদমাধ্যমেরও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। শিশুর অসহায়ত্বকে প্রচারের উপকরণ বানানো নয়; তার মর্যাদা, গোপনীয়তা ও অধিকার রক্ষা করেই বাস্তবতা তুলে ধরতে হবে। সহায়তার আবেদন করা যেতে পারে, কিন্তু শিশুর আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে নয়।

জাতীয় সংগীতের শিক্ষা কোথায় পূর্ণতা পায়? :

বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে যখন শিশুরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গায়, তখন তাদের শেখানো হয় দেশকে ভালোবাসতে, দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে। এটি নাগরিক চেতনা গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

তবে দেশপ্রেমের শিক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। যে শিশু অন্য শিশুকে অপমান করে, দুর্বল সহপাঠীকে হেয় করে কিংবা প্রতিবন্ধী শিশুকে খেলায় অংশ নিতে দেয় না, তাকে দেশপ্রেমের পাশাপাশি মানবিকতা ও সমমর্যাদার শিক্ষাও দিতে হবে।

জাতীয় সংগীতের মর্যাদা রক্ষা এবং শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো বিষয় নয়। বরং দুটিই দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের অংশ। জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা শেখানোর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি শিশুর প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ জাগিয়ে তোলাও জরুরি।

‘আমার সোনার বাংলা’ গানের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই আমাদের সামাজিক জীবনে অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন দেশপ্রেম কেবল কণ্ঠে নয়, আচরণেও প্রকাশ পায়—যখন আমরা অসহায় শিশুর কান্না শুনি, নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াই এবং কোনো শিশুকে তার পরিচয়, আর্থিক অবস্থা, লিঙ্গ কিংবা শারীরিক সক্ষমতার কারণে পিছিয়ে পড়তে দিই না।

রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজ—কার দায়িত্ব কতটুকু? :

শিশু অধিকার রক্ষার দায়িত্ব কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নয়। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ—সবারই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রয়েছে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো কার্যকর আইন প্রয়োগ, মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শিশুবান্ধব বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা। শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, পাচার, বাল্যবিবাহ ও শোষণের অভিযোগ দ্রুত, সংবেদনশীল ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবারের দায়িত্ব শিশুকে ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও মূল্যবোধের পরিবেশ দেওয়া। বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি শিশুর আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও সহমর্মিতা বিকাশে সহায়তা করা।

গণমাধ্যমের দায়িত্বও কম নয় :

শিশুদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পরিচয় গোপন রাখা, অপ্রয়োজনীয় ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করা, অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করা এবং শিশুর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ যেন শিশুর জন্য নতুন কোনো বিপদ, সামাজিক অপমান কিংবা মানসিক আঘাতের কারণ না হয়।

আর নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব—শিশু নির্যাতনকে পারিবারিক বিষয় বলে উপেক্ষা না করা, ঝুঁকিতে থাকা শিশুকে যথাযথ সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো শিশুকে নিয়ে বিদ্রূপ, অপমান কিংবা পরিচয় প্রকাশের প্রবণতা থেকে বিরত থাকা।

ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে? :

একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা মানে শুধু তাকে পরীক্ষায় ভালো ফল করার সুযোগ দেওয়া নয়। তার প্রয়োজন নিরাপদ শৈশব, পুষ্টিকর খাবার, সুস্থ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা, খেলাধুলা, সৃজনশীলতার স্বাধীনতা এবং নিজের কথা বলার সুযোগ।

একটি শিশুকে বড় হতে দিতে হবে—নিজের স্বপ্ন নিয়ে, নিজের প্রশ্ন নিয়ে, নিজের প্রতিভা নিয়ে। তাকে এমন পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ থাকবে, বিপদে পড়লে সাহায্য পাওয়া যাবে এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে কথা বললে তাকে অবজ্ঞা করা হবে না।

এখানে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন নেই। শিশু অধিকার একটি মানবিক ও জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়। যে উদ্যোগ শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা বাড়ায়, তা প্রশংসার যোগ্য; আর যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে তথ্যভিত্তিক সমালোচনা ও কার্যকর সংস্কারের দাবি তোলা প্রয়োজন। এভাবেই আবেগের সঙ্গে নিরপেক্ষতা এবং দেশপ্রেমের সঙ্গে জবাবদিহির সমন্বয় ঘটতে পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব সহজ—আমরা শিশুদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত শুনতে চাই, নাকি তাদের জীবনে সেই গানের স্বপ্নও বাস্তবায়িত হতে দেখতে চাই?

একটি শিশু যখন নিরাপদে ঘুমাতে পারে, ক্ষুধার ভয় ছাড়া বিদ্যালয়ে যেতে পারে, নির্যাতনের আশঙ্কা ছাড়াই নিজের কথা বলতে পারে এবং বৈষম্যহীন পরিবেশে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পায়, তখনই দেশ তার ভবিষ্যতের ভিত শক্ত করে।

শিশুর হাসি কোনো রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার অলংকার নয়; এটি একটি সমাজের সুস্থতার অন্যতম চিহ্ন। শিশুর চোখের জল উন্নয়নের পরিসংখ্যানে হয়তো সহজে ধরা পড়ে না, কিন্তু সেই অশ্রুর ভার একসময় সমাজের বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

তাই আসুন, জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধাকে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধায়, দেশপ্রেমকে দায়িত্ববোধে এবং শিশুদের প্রতি মমতাকে কার্যকর অধিকার সুরক্ষায় রূপান্তরিত করি।

কারণ, শিশুকে রক্ষা করা মানে শুধু একটি জীবনকে নিরাপদ রাখা নয়—একটি দেশের আগামীকালকে ভালোবাসা। আর যে দেশে শিশুর শৈশব নিরাপদ, সে দেশই সত্যিকার অর্থে সোনার বাংলার স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

মোঃ রুহুল আমিন, সাবেক শিক্ষক,মানবাধিকার ও সাংবাদিক,
e-mail address : aminruhul8660@gmail.com
what’s app No : 01853778013


More News Of This Category