শিক্ষক দিবসে শ্রদ্ধা ও ভালোবাস,,
মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র স্টাফ রিপোটার,,
“সব শিক্ষক আলো ছড়ান না,
কেউ কেউ নিজের জীবনটাই প্রদীপের মতো জ্বালিয়ে
অন্যের পথ আলোকিত করে যান।”
শিক্ষক—শুধু একটি পেশার নাম নয়; শিক্ষক মানে একজন মানুষের ভেতরের মানুষটিকে গড়ে তোলার কারিগর। বাবা-মায়ের পর জীবনে যাঁদের কাছে আমরা সবচেয়ে বেশি ঋণী, তাঁদের মধ্যে শিক্ষকরা অন্যতম।
একজন শিক্ষক আমাদের শুধু বইয়ের অক্ষর শেখান না—
শেখান কীভাবে সত্যকে সত্য বলতে হয়,
ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়,
ব্যর্থতার পর আবার উঠে দাঁড়াতে হয়,
মানুষকে সম্মান করতে হয় এবং
জীবনের কঠিন পথে মাথা উঁচু করে হাঁটতে হয়।
শৈশবে হয়তো কোনো শিক্ষকের কঠোর শাসন ভালো লাগেনি। মনে হয়েছে—স্যার এত বকেন কেন? এত নিয়ম কেন? আজ বুঝি, সেই শাসনের আড়ালেও ছিল মমতা, দায়িত্ববোধ আর আমাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা।
জীবনের পথে আমরা অনেক মানুষকে ভুলে যাই। কিন্তু কোনো এক শিক্ষক হঠাৎ মনে পড়ে যান—তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর পড়ানোর ভঙ্গি, তাঁর বকা, তাঁর উৎসাহ, পরীক্ষার খাতায় লেখা একটি ছোট্ট মন্তব্য কিংবা ব্যর্থতার সময়ে বলা কয়েকটি সাহসের কথা।
সময়ের স্রোতে আমরা ছাত্র থেকে কর্মজীবী হই, সংসার করি, সন্তানদের বাবা-মা হই। কিন্তু শিক্ষকের কাছে আমরা আজও সেই ছোট্ট ছাত্রটিই—যাকে তিনি একদিন স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন।
আজ শিক্ষক দিবসে পৃথিবীর সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতা।
যাঁরা আজ আমাদের মাঝে নেই, তাঁদের প্রতিও রইল অশেষ শ্রদ্ধা। তাঁদের হাতে গড়া অসংখ্য মানুষই আজ তাঁদের জীবন্ত স্মৃতি হয়ে পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে।
শিক্ষক চলে যান,
কিন্তু তাঁর শেখানো কথা কখনো চলে যায় না।
শিক্ষক অবসর নেন,
কিন্তু তাঁর আদর্শ কখনো অবসর নেয় না।
আমাদের জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে যে মানুষগুলোর নীরব অবদান রয়েছে, তাঁদের প্রতি আজ শুধু একটি কথাই বলতে চাই—
**“স্যার/ম্যাডাম, আপনার কাছে আমরা চিরঋণী।
আপনি আমাদের শুধু পড়াননি—
আমাদের মানুষ হতে শিখিয়েছেন।
আপনার প্রতি রইল আজীবন শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।”**
শুভ শিক্ষক দিবস।
সকল শিক্ষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।