লালমনিরহাট জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার তিনগুণের বেশি বন্দী
আবাসন, স্যানিটেশন ও চিকিৎসাসেবায় বাড়ছে চাপ।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
লালমনিরহাট জেলা কারাগারে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় তিনগুণেরও বেশি বন্দী অবস্থান করছেন। এতে কারাগারের আবাসন, স্যানিটেশন ও চিকিৎসাসেবায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। কারাগার সূত্রের বরাতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ১৯০ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে প্রায় ৬১৯ জন বন্দীর থাকার তথ্য উঠে এসেছে; কোনো কোনো সময়ে বন্দীর সংখ্যা ৭০০ ছাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
কারাগার সূত্র জানায়, অতিরিক্ত বন্দীর চাপ সামলাতে আবাসনের ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। জায়গার সংকটের কারণে লকআপের পাশাপাশি বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে বন্দীদের অবস্থান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্যানিটেশন, গোসল ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে নানা ধরনের সমস্যার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
কারাগারে বন্দীদের চিকিৎসাসেবায় একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিপুলসংখ্যক বন্দীর তুলনায় সীমিত জনবল থাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
মোস্তফি এলাকার বন্দী আলমের মা জমিলা বেগম বলেন, ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দী থাকায় কারাগারে থাকার জায়গা, স্যানিটেশন ও গোসলের মতো মৌলিক সুবিধা নিয়ে বন্দীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
কারামুক্ত রাহুল মহাজন বলেন, অতিরিক্ত বন্দীর কারণে কারাগারের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন স্থানে ঠাসাঠাসি করে থাকতে হয়।
কারাগারের অতিরিক্ত বন্দীসংখ্যা নিয়ে জাতীয় পর্যায়েও উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দী রয়েছে এবং অতিরিক্ত বন্দীর কারণে কিছু কারাগারে আবাসনসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত বন্দীর চাপ মোকাবিলায় কারা প্রশাসন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। বন্দীদের খাবারের মান, সাক্ষাৎ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে। আবাসন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় তিনগুণের বেশি বন্দী থাকা কারাগারের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বন্দীদের পর্যাপ্ত আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।