লালমনিরহাটে সারের দাবিতে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ
ভরা আমন মৌসুমে চাহিদামতো সার মিলছে না।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
এখন আমন ধান চাষের ভরা মৌসুম চলছে। কৃষকের পযার্প্ত সারের চাহিদা রয়েছে কিন্তু তারা চাহিদামেো সার সরবরাহ পাচ্ছেন না। সার ডিলারদের দোকানে গিয়েও সার না পেয়ে চরমভাবে হতাশ হচ্ছেন চাষিরা। চাহিদামতো সার সরবরাহের দাবিতে সোমবার সকালে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন। কালগিঞ্জ বাজারে সকাল ১০ থেকে ১১টা পযর্ন্ত মহাসড়ক অবরোধে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা তিন শতাধিক কৃষক অংশ নেন। এসময় তারা স্লোগান দেন ‘সার দে কৃষি বাঁচাও’ ‘বাঁচলে কৃষি বাঁচবে দেশ’ ‘মরলে কৃষক মরবে দেশ’।
মহাসড়ক অবরোধের সময় বুড়িমারী স্থলবন্দর চলাচলকারী শতাধিক ট্রাক সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে। মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।
পরে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ কৃষকদের শাস্ত করেন। ইউএনও কৃষকদের আগামি ২-৩ দিনের মধ্যে চাহিদামতো র সরবরাহের নিশ্চয়তা দিলে কৃষকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
মদাতি গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম (৬৫) জানান, সার ডিলারদের দোকানে ধর্ণা দিয়েও তারা চাহিদামতো সারের সরবরাহ পাচ্ছেন না। কয়েক দোকান ঘুরে ইউরিয়া ও ডিএপি সার সংগ্রহ করতে পারলেও টিএসপি সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। আমন ধান চাষের ভরা মৌসুমে টিএসপি সারের খুবই প্রয়োজন। বাড়তি টাকা খরচ করে সার যোগার করতে পারছেন না তারা। ‘এমনিতে ফসল উৎপাদন করে আমরা লাভ করতে পারছি না। তারওপর ঠিকঠাক সার সরবরাহ সার সরবরাহ না পেলে আমাদেরকে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে হবে। কৃষিকাজ ছাড়া আমরা অন্য কোন কাজও জানি না,’ তিনি বলেন।
তুষভান্ডার গ্রামের কৃষক নবিয়ার রহমান (৫৫) জানান, আমন ধান চাষের ভরা মৌসুমে সকল ধরনের সারের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। টিএসপি সারে সঙ্কট তীব্র হয়েছে। আগের বছরগুলোতে এমনটা হয়নি। চাহিদামতো সারের সরবরাহ না পাওয়ায় আমন খেতে সার ছিটাতে পারছেন না। সময়মতো সার ছিটাতে না পারলে আশানুরুপ ধানের উৎপাদন সম্ভব নয়। ‘আমন হলো আমাদের জন্য লাভজনক ফসল। কিন্তু চাহিদামতো সার সরবরাহ না পেলে এবার লোকসানে গুনতে হবে,’ তিনি বলেন।
দলগ্রাম এলাকার কৃষক নাজির হোসেন (৬০) বলেন, ‘২-৩ বছর আগে আমরা সারের জন্য কোথাও ধর্ণা দেইনি। সবসময় চাহিদামতো সারের সরবরাহ পেতাম। কিন্তু এখন সারের জন্য আমাদেরকে সার ডিলারদের দোকানে গিয়ে ধর্ণা দিতে হচ্ছে তবুও সার পাওয়া যাচ্ছে না।’ ‘এমনিতেই এবছর আলুচাষে লোকসান, ভুট্টা ও ধানে কোনবরকমে পুঁজি তুলেছি। সারের অভাবে আমন ধান চাষ ব্যাহত হলে আমাদের শুধুই ক্ষতিরমুখে পড়তে হবে,’ তিনি বলেন।
কাকিনা এলাকার কৃষক শামসুল আলম সরকার (৬৫) বলেন, ‘সারের দাবিতে আমরা মহাসড়ত অবরোধ করেছি। ইউএনও আশ্বাসি দিয়েছেন আগামি ২-৩ দিনের মধ্যে চাহিদামতো সারের সরবরাহ পাবো। সময়মতো চাহিদামতো সারের সরবরাহ না পেলে আমরা পুনরায় আন্দোলন গড়ে তুলবো।’
কালীগঞ্জের সার ডিলার সোহরাব হোসেন জানান, তারা সরকারিভাবে যতটুকু সার সরবরাহ পাচ্ছেন ততটুকুই সরকারি নির্ধারিত দরে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন। সরকারিভাবে সার সরবরাহ কম হওয়ায় কৃষকরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। ‘আমরা কভনই সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করিনা। বেশি দরে সার বিক্রি করি না। সরকার সারের সরবরাহ বৃদ্ধি করলে আমরাও কৃষকদের কাছে চাহিদামতো সার সরবরাহ করতে পারবো,’ তিনি বলেন। কিশেষ করে টিএসপি সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে কিন্তু সরকারি বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় ৬০-৭০ শতাংশ কম।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষকদের সারের ঘাটতি ও ক্ষোভের বিষয়টি প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত সারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যাতে চাহিদামতো সারের সরবরাহ পান সেজন্য সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
’কোনো সার ডিলার যদি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিংবা সার বিক্রিতে কোনো অনিয়ম করেন, ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমি সার ডিলারের দোকানগুলো মনিটরিং করবো,’ তিনি বলেন।