সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
Headline :
পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস ও বাইসাইকেল আটক লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা মোঃসেলিম মিয়া গোমস্তাপুরে সড়কের পাশে অটো রাইস মিল নির্মাণ, সড়কে বালু-নির্মাণসামগ্রী—দুর্ঘটনার শঙ্কা মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ কসমেটিক্স-বিকাশের দোকানের আড়ালে মাদক ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ! জুয়েলকে ঘিরে চাঞ্চল্য। তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহন করলেন ডা. নূরুল হক “হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের” কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস নীলফামারীতে ৪ শিশুকে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টা চেষ্টা, বৃদ্ধ গ্রেফতার। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ সিরাজগঞ্জে নাটুয়াপাড়ায় লিও পাম্প বাংলাদেশের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি সার্ভিস ক্যাম্প সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি মধুপুরে মাদক-জুয়া ও সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মতবিনিময় আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ ফেলেন পালানেন স্বামী পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। লালমনিরহাট জেলা পতিনিধি রওশন বাবু ০১৭২৫১৯২৪২৪

Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ ফেলেন পালানেন স্বামী
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে।

লালমনিরহাট জেলা পতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ স্বামীর বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের ওই বাড়ির উঠান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত গৃহবধু হলেন আফরোজা বেগম (১৮)। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে নিথক গ্রামের দীন ইসলাম (২৪)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই আফরোজা ও দীন ইসলামের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় স্বামী আফরোজাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেচিলেন, “আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।” এর কিছুক্ষণ পর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, এরপর দীন ইসলাম আফরোজার বাবাকে ফোন করে জানান, আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য টাকা প্রয়োজন। এ সময় চিকিৎসার খরচ বাবদ টাকা পাঠাতে বলা হয়। টাকা পাঠাতে কিছুটা দেরি হওয়ার পর দীন ইসলাম আবার ফোন করে আফরোজার মৃত্যুর খবর দেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

সোমবার সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আফরোজার মরদেহ গাজীপুর থেকে কালীগঞ্জের নিথক গ্রামে স্বামীর বাড়িতে আনা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি অচেনা গাড়ি থেকে আফরোজার মরদেহ টেনেহিঁচড়ে বাড়ির উঠানে নামিয়ে রেখে দীন ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন দ্রুত চলে যান। পরে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাপলা বেগম বলেন, মরদেহের শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মৃত্যুর আগে আফরোজা ব্যাপক মারধরের শিকার হয়েছিলেন।

নিহতের বাবা আলফেস আলী অভিযোগ করে বলেন, “গাজীপুরের বাসায় আমার মেয়েকে তার স্বামী কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তার পুরো শরীরে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তারা আমাদের কাছে চিকিৎসার টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় লাশ এনে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। আমরা এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, “আমি কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে।

অভিযুক্ত দীন ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে দিনি দাবি করেন তার স্ত্রী আফরোজা বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। আফরোজার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহের সঙ্গে ঢাকার উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালের একটি নথি পাওয়া গেছে। ওই নথিতে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে।
ওসি বলেন, নিহতের স্বজনরা মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার দাবি করেছেন। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


More News Of This Category