রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
Headline :
মিঠাপুকুরে শিববাজার মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: অবশেষে নতিস্বীকার চেয়ারম্যানের ​নিজস্ব প্রতিবেদক, মিঠাপুকুর | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ​রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পূর্ব মুরাদপুর রাজ্জাকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মুখে অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম। ​ঘটনার প্রেক্ষাপট ​দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার মূল্যবান সম্পদ ও গাছ একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজশে আত্মসাতের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে আজ মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের হক আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। ​চেয়ারম্যানের আশ্বাস ও আপস ​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন এবং তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন: ​মাদ্রাসার যে প্রাপ্য অধিকার রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ​বিক্রয়কৃত বা লভ্যাংশের প্রায় ৫৫% ভাগ সরাসরি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাবে। ​শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ​ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ​এই সম্পদ আত্মসাতের নেপথ্যে যারা কলকাঠি নেড়েছে, তাদের পরিচয় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ করতে বিব্রতবোধ করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বড় ধরনের অনিয়মের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। ​শিক্ষকবৃন্দের ভূমিকা: অনুপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ​বিক্ষোভ চলাকালীন একটি উল্লেখযোগ্য ও দুঃখজনক বিষয় ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ কুদ্দুস সরকারকে পাশে পাওয়া যায়নি। তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ​তবে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মিছিলে অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ​উপসংহার ​শিক্ষার্থীদের এই জয়কে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তবে চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। গ্রামে থাকতে পারেননি ১৭ বছর নির্যাতিত বিএনপি নেতা মোঃ গোলাম ফারুক তানভীর জীবন গড়তে চান চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত ‘মডেল’ ৬নং সুইয়ার ইউনিয়ন। কুড়িগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে ২ মণ গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। রংপুরে নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ: লালমনিরহাটে মানববন্ধন ও ৩ দিনের আলটিমেটাম ‎ চিত্রা নদীতে হারিয়ে যাওয়া ফরহাদের লাশ উদ্ধার। স্বাধীনতা নাকি অনুমতির শৃঙ্খল। ​সোনামসজিদ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির বড় সাফল্য ভারতীয় ট্রাকসহ প্রায় ৬ হাজার বোতল মাদক সিরাপ জব্দ। শ্রীবরদীতে বিলের পাড় থেকে ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার

রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়ায় নদী ভাঙ্গন রক্ষায় মানববন্ধন

Reporter Name / ৪২ Time View
Update : শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫

মোঃ আনোয়ার হোসেন,নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে এবং সেখানকার বাসিন্দারা ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন করেছেন। ভাঙন-জলোচ্ছ্বাসে চালিতাবুনিয়ার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে চালিতাবুনিয়াবাসী নদী ভাঙন থেকে তাদের এলাকাকে রক্ষার জন্য তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন:

১. ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।
২. প্রতি বছর মেরামত না করে, ব্লক দিয়ে টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ তৈরি করা।
৩. ভাঙনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

আরও পড়ুনঃ লামায় শহীদ ওয়াসিম স্মৃতি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও চারা বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

চালিতাবুনিয়ার বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনে তাদের জীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরে। ভাঙনের কারণে তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং অন্যান্য সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চেয়েছেন।

বিশেষ করে, স্থানীয় বাসিন্দা কবির হাওলাদার জানান, তার দুই একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং তাকে তিনবার ঘর সরাতে হয়েছে। চালিতাবুনিয়াবাসী অবিলম্বে এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে চান এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

মিঠাপুকুরে শিববাজার মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: অবশেষে নতিস্বীকার চেয়ারম্যানের ​নিজস্ব প্রতিবেদক, মিঠাপুকুর | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ​রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত পূর্ব মুরাদপুর রাজ্জাকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সম্পদ ও গাছ আত্মসাতের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শিক্ষার্থীদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মুখে অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম। ​ঘটনার প্রেক্ষাপট ​দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার মূল্যবান সম্পদ ও গাছ একটি কুচক্রী মহলের যোগসাজশে আত্মসাতের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে আজ মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপস্থিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের হক আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। ​চেয়ারম্যানের আশ্বাস ও আপস ​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ১৬নং মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হন এবং তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন: ​মাদ্রাসার যে প্রাপ্য অধিকার রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ​বিক্রয়কৃত বা লভ্যাংশের প্রায় ৫৫% ভাগ সরাসরি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাবে। ​শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ​ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ​এই সম্পদ আত্মসাতের নেপথ্যে যারা কলকাঠি নেড়েছে, তাদের পরিচয় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ করতে বিব্রতবোধ করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই বড় ধরনের অনিয়মের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। ​শিক্ষকবৃন্দের ভূমিকা: অনুপস্থিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ​বিক্ষোভ চলাকালীন একটি উল্লেখযোগ্য ও দুঃখজনক বিষয় ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধানের ভূমিকা। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ কুদ্দুস সরকারকে পাশে পাওয়া যায়নি। তার এই অনুপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ​তবে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে মিছিলে অংশ নেন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ​উপসংহার ​শিক্ষার্থীদের এই জয়কে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তবে চেয়ারম্যানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।