রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
Headline :
আদিতমারীতে পুকুরে ডুবে কিশোরীর মৃত্যু, রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সফল অভিযান। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগ ক্রাইম রিপোর্টার সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মিরপুরে জরুরি সভা বিশেষ প্রতিনিধি : নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলার সংবাদ: গোবিন্দগঞ্জে মামলায় গ্রেপ্তার চাঁদমিয়া-মাহাবুরের মুক্তি দাবি। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুনঃতদন্তের দাবি। গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে রত্নাই সড়ক সেতুর উদ্বোধন করলেন—ত্রাণমন্ত্রী দুলু। লালমনিরহাট জেলা পতিনিধি রওশন বাবু ০১৭২৫১৯২৪২৪ বীর মুক্তিযোদ্ধা তফাজ্জল হোসেন খাঁনকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেএসএফ-শত বাংলাদেশ হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা তফাজ্জল হোসেন খাঁনকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেএসএফ-শত বাংলাদেশ হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবির কর্তৃক কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত মকবুল হোসেন, সিনিয়র রিপোটার পরকীয়া ও ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে—মসজিদ কমিটির নীরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ তদন্ত! আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ দ্রুত সুস্থ হেয়ে এলাকায় ফিড়ে আসার ইচ্ছে পোষণ করেছেন সমাজসেবক “জুয়েল” আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

গোবিন্দগঞ্জে মামলায় গ্রেপ্তার চাঁদমিয়া-মাহাবুরের মুক্তি দাবি। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুনঃতদন্তের দাবি। গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জে মামলায় গ্রেপ্তার চাঁদমিয়া-মাহাবুরের মুক্তি দাবি।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুনঃতদন্তের দাবি।

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারদহ দক্ষিণপাড়া গ্রামে একটি সিআর মামলায় চাঁদমিয়া সরকার ও তাঁর ছেলে মাহাবুর সরকারকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে দ্রুত মুক্তি এবং মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মামলা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদারদহ দক্ষিণপাড়া গ্রামের চাঁদমিয়া সরকারের বাড়িতে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, লুটপাট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তিনি গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি ২০২৪ সালের ২ জুন দায়ের করা হয়। এর জিআর নম্বর ২১২/২০২৪।

পরবর্তীতে চাঁদমিয়া সরকারের পরিবারের ওপর পুনরায় হামলা, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তাঁর ছেলে মাহাবুর সরকার বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলার নম্বর ৪/২৪৯ এবং জিআর নম্বর ২৪৯/২০২৪।

স্থানীয়দের দাবি, এসব মামলায় আসামিদের সঙ্গে চাঁদমিয়া ও মাহাবুর সরকারের বিরোধ চলে আসছিল। এরই মধ্যে মোজাফফর সরকার বাদী হয়ে ২০২৫ সালে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০২৩ সালের ১ আগস্টের একটি কথিত মারামারির ঘটনা উল্লেখ করে সিআর মামলা নম্বর ৩৫০/২০২৫ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পিবিআই গাইবান্ধাকে নির্দেশ দেন।

তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলেছেন চাঁদমিয়া ও মাহাবুরের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আবু জাফর ঘটনাস্থলে সরেজমিনে উপস্থিত না হয়েই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, বাস্তব অবস্থার সঙ্গে তার মিল নেই। ক্যাচম্যাপের বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে যাঁদের সাক্ষী বা নিরপেক্ষ সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের কয়েকজন চাঁদমিয়া ও মাহাবুর সরকারের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি—এমন দাবিও করেছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের প্রশ্ন, স্থানীয় মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সরদার কিংবা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাউকে সাক্ষী হিসেবে নেওয়া হয়নি কেন। একই সঙ্গে মেডিকেল প্রতিবেদন ও তদন্ত প্রতিবেদনে আঘাতের ধরন ও মামলার ধারার উল্লেখ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মামলার তদন্তের সময় পিবিআইয়ের কোনো কর্মকর্তাকে গ্রামে সরেজমিনে তদন্ত করতে তাঁরা দেখেননি। তাঁদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা জানতে হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা প্রয়োজন ছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) আবু জাফরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, মোজাফফর সরকারের দায়ের করা সিআর মামলায় গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ দুপুর ২টার দিকে চাঁদমিয়া সরকার ও মাহাবুর সরকারকে তাঁদের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে হামলা, মারধর ও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের করা মামলায় চাঁদমিয়া ও মাহাবুরকে গ্রেপ্তার করায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদমিয়া সরকারের পরিবারের সঙ্গে অপর পক্ষের জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের জেরে তাঁদের স্বাভাবিক চলাচল ও জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

এলাকাবাসী বলেন, কোনো পক্ষের প্রভাব বা হয়রানির কারণে যেন নিরপরাধ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তাই গ্রেপ্তার চাঁদমিয়া ও মাহাবুর সরকারকে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি সিআর মামলা নম্বর ৩৫০/২০২৫-এর তদন্ত পুনরায় নিরপেক্ষভাবে করার দাবি জানান তাঁরা।

তাঁদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্ত, নিরপেক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও মেডিকেল প্রতিবেদন যাচাই করা হলে সত্য উদঘাটিত হবে।

এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাদারদহ দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দারা।


More News Of This Category