রংপুরে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলৎকার: অভিযুক্তকে ধরে গণধোলাই দিল জনতা
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রংপুরে নাস্তা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ১৭ বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল মতিনকে (৬১) আটক করে গণধোলাই দেন স্থানীয় লোকজন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত—আব্দুল মতিন রংপুর সিটি করপোরেশনের হারাগাছ থানাধীন চাঁদকুঠি সদবাজার এলাকার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
ভুক্তভোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১ নভেম্বর) রাতে ওই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোর নগরীর সদবাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। রাত আনুমানিক নয়টার দিকে তাকে নাস্তা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ফুসলিয়ে চাঁদকুঠি সদবাজার এলাকার জনৈক ব্যক্তির গোডাউনের খালি মাঠে নিয়ে যান আব্দুল মতিন। সেখানে নিয়ে কিশোরটিকে বলৎকার করেন তিনি।
ঘটনার পর ছেলেটিকে সদবাজারের কাছাকাছি রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত আব্দুল মতিন। এ সময় ছেলেটির কান্নাকাটি এবং তার পরিধেয় কাপড়ে রক্ত দেখে স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুরো ঘটনা খুলে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন আব্দুল মতিনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। তবে একপর্যায়ে কৌশলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী কিশোরকে উদ্ধার করে। এদিকে খবর পেয়ে স্বজনরা প্রথমে তাকে হারাগাছ ৩১ শয্যা হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা বাদী হয়ে আব্দুল মতিনকে একমাত্র আসামি করে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়দের গণধোলাইয়ে আহত হয়ে অভিযুক্ত আসামি আব্দুল মতিনও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।