যে ছেলেটাকে বলা হয়েছিল – “তোমার ছোঁয়ায় দেবী অপবিত্র হবে”, সেই ছেলেটাই আকাশের নক্ষত্রের জন্ম রহস্য ফাঁস করে দিল,,,,
মোঃ মজিবুর রহমান সিনিয়র সটাফ রিপোর্টার দৈনিক বাংলার সংবাদ,,,
*১৯১১ সাল। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ। ইডেন হিন্দু হোস্টেল।*
দুপুরের খাবারের সময়। একটা রোগা কৃষ্ণকায় ছেলে একা থালা নিয়ে বসে আছে। তার আশেপাশের সব চেয়ার ফাঁকা। কেউ বসছে না।
কারণ? সে মেধাবী নয় বলে? না।
কারণ সে *নিচু জাতের।* অস্পৃশ্য।
গলা দিয়ে ভাত নামছে না। চোখে জল।
কয়েকদিন পর সরস্বতী পুজো। সে অঞ্জলি দিতে গেল। ঠাকুরমশাই হাত চেপে ধরলেন। বললেন – *”তুমি নিচু জাত, তোমার ছোঁয়ায় দেবী অপবিত্র হবেন।”*
সেদিন ছেলেটা কিছু বলেনি। শুধু মনে মনে শপথ নিয়েছিল –
*”এই জাতপাতের সমাজকে আমি পায়ের তলায় পিষব। মেধা দিয়ে এমন জায়গায় যাব, যেখানে তোমরা আমাকে ছুঁতেও পারবে না।”*
*সেই ছেলেটার নাম ছিল – মেঘনাদ সাহা।*
*কে এই মেঘনাদ?*
১৮৯৩। ঢাকার শেওড়াতলী গ্রাম। এক ঝড়-জলের রাতে জন্ম। বাবা জগন্নাথ সাহা সামান্য মুদি দোকানি। অভাবের সংসার।
বাবা বলেছিল – “দোকানে বোস।”
ছেলে বলেছিল – “না, আমি আকাশ মাপব।”
প্রবল বৃষ্টিতে মাইলের পর মাইল কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেত। এক ডাক্তার অনন্ত দাসের বাড়িতে *বাসন মেজে, গোয়াল ঘর পরিষ্কার করে* পড়ার খরচ জোগাত।
*তার রক্তে ছিল বিদ্রোহ।*
১৯০৫। বঙ্গভঙ্গ। ব্রিটিশ গভর্নর ব্যামফিল্ড ফুলার এলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে। সবাই ভয়ে কাঁপছে।
আর এই ১২ বছরের ছেলেটা? বন্ধুদের নিয়ে *জুতো পায়ে দিয়েই ক্লাস বয়কট!*
ফল? স্কুল থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল। বৃত্তি কেড়ে নিল।
ব্রিটিশরা জানত না, এটা কোনো সাধারণ ছেলে নয়, এটা একটা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি।
সে আবার উঠে দাঁড়াল। কিশোরী লাল জুবিলী স্কুল থেকে এন্ট্রান্সে *গণিতে আর ভাষায় সর্বোচ্চ নম্বর* পেয়ে সবাইকে চমকে দিল।
*আর তারপর এল সেই ১৯২০ সাল – যে বছরটা ইতিহাস বদলে দিল।*
হাতে নেই কোনো ল্যাব। নেই কোনো দামি যন্ত্র। আছে শুধু কাগজ আর কলম।
আর সেই কাগজ কলমে বসে তিনি একটা সমীকরণ লিখলেন –
*”সাহা সমীকরণ – তাপীয় আয়নীকরণ তত্ত্ব”*
যে সমীকরণ দিয়ে প্রথমবার মানুষ জানল – *নক্ষত্ররা আসলে কী দিয়ে তৈরি! নক্ষত্রের তাপমাত্রা কত!*
বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী এডিংটন বলতে বাধ্য হলেন – *”গ্যালিলিও যেমন দূরবীন আবিষ্কার করেছিলেন, মেঘনাদ সাহার এই আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসের সেরা ১০টি ঘটনার একটি।”*
*কিন্তু এই দেশ তাকে কী দিল?*
অপমান। আর বঞ্চনা।
*৫ বার। ৫ বার তার নাম গেল নোবেলের জন্য। ১৯৩০ সালে।*
কিন্তু প্রতিবারই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। কেউ বলল – “এটা তো শুধু তত্ত্ব।” কেউ হয়তো তার গায়ের রঙ দেখল।
নোবেল পেলেন না।
স্বাধীন ভারতে তিনি বললেন – “চরকায় দেশ চলবে না, দেশ চলবে বিজ্ঞান আর ভারী শিল্পে।”
গান্ধীজির সাথে ঝগড়া হলো। নেহেরুর সাথেও। স্পষ্টবক্তা মানুষটাকে কেউ সহ্য করতে পারল না। তিনি থেকে গেলেন *এক নিঃসঙ্গ যোদ্ধা।*
*১৬ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬।*
রাষ্ট্রপতি ভবন। প্ল্যানিং কমিশনের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন ৬২ বছরের এই কর্মবীর। দেশকে নিয়ে অনেক প্ল্যান।
হঠাৎ রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।
যে হৃদয়টা সারাজীবন দেশ আর বিজ্ঞানের জন্য ধুকপুক করেছে, সেটা থেমে গেল এক নিমেষে। পকেটে তখনও কয়েকটা টাকা, কিন্তু মাথায় গোটা আকাশের মানচিত্র।
যে ছেলেটাকে হোস্টেলে একা বসিয়ে রাখা হয়েছিল, যে ছেলেটাকে সরস্বতী পুজোয় অঞ্জলি দিতে দেওয়া হয়নি, সেই ছেলেটাই আজ আকাশের নক্ষত্রের শিক্ষক।
*জাতপাত তাকে আটকাতে পারেনি। ব্রিটিশরা পারেনি। দারিদ্র্য পারেনি।*
কারণ তিনি ছিলেন ধূমকেতু। নিজের আলোয় পথ চেনেন।
*শত কোটি প্রণাম হে বিজ্ঞানী। তোমাকে এই দেশ ভুলে গেলেও, আকাশের প্রতিটা তা
✍️Abir Fouji 🪖