রংপুরে নিখোঁজের পরদিন পাটখেতে মিলল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর চোখ উপড়ানো লাশ
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগ ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
২০ জুন, ২০২৬
রংপুরের তারাগঞ্জে নিখোঁজের এক দিন পর সানজিদা (৯) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর চোখ উপড়ানো (ভেতরে ঢোকানো) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (২০ জুন) বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির অদূরে একটি পাটখেত থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত সানজিদা উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।
পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে সানজিদাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যা পর্যন্ত আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে রাতে এলাকায় মাইকিংও করা হয়। আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন মাঠে কাজ করতে গিয়ে বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে ডালিয়া সেচ ক্যানেলের পাশে একটি পাটখেতে ওই শিশুর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থল ও সানজিদার বাড়িতে ভিড় করছেন।
কোরানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুমন ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,গতকালও বাচ্চাটা আমাদের সামনে খেলাধুলা করল। আর আজ তার চোখ উপড়ানো লাশ পাওয়া গেল! এই নিষ্পাপ শিশুটি কার কী ক্ষতি করেছিল যে তাকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করতে হলো? আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদ্ঘাটন এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন,সানজিদা আমার মেয়ের সাথেই দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। ওকে খুঁজে না পেয়ে গতকাল ওর বাবা-মা এলাকায় মাইকিং করেছিলেন। আজ তার লাশ মিলল। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৯ বছর বয়সী শিশু সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, শিশুটির চোখ দুটি ভেতরে দাবানো (উপড়ানো) ছিল। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।