রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
Headline :
বালিয়াকান্দিতে স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা গংগাচড়ায় সোনার দামে বালু, থমকে গেছে উন্নয়ন, উপজেলা প্রশাসন নিরব। বিপাকে কৃষক ও ঠিকাদার এম লিখন সরকার । গংগাচড়া (রংপুর প্রতিনিধি) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তুরাগবাসীসহ দেশবাসীকে আব্দুর রহমান বুলুর শুভেচ্ছা ঢাকায় নিখোঁজ চাঁদপুরের কলেজছাত্রী নাজমা আক্তার, রহস্যময় বার্তায় দুর্ঘটনার দাবি জেমস আব্দুর রহিম রানা, নিজস্ব প্রতিবেদক আদিতমারীতে পুকুরে ডুবে কিশোরীর মৃত্যু, রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সফল অভিযান। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগ ক্রাইম রিপোর্টার সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মিরপুরে জরুরি সভা বিশেষ প্রতিনিধি : নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলার সংবাদ: গোবিন্দগঞ্জে মামলায় গ্রেপ্তার চাঁদমিয়া-মাহাবুরের মুক্তি দাবি। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুনঃতদন্তের দাবি। গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে রত্নাই সড়ক সেতুর উদ্বোধন করলেন—ত্রাণমন্ত্রী দুলু। লালমনিরহাট জেলা পতিনিধি রওশন বাবু ০১৭২৫১৯২৪২৪ বীর মুক্তিযোদ্ধা তফাজ্জল হোসেন খাঁনকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেএসএফ-শত বাংলাদেশ হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় কামার শিল্পীরা টুং টাং শব্দে ব্যস্ত সময় পার করছে

Update : মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় কামার শিল্পীরা টুং টাং শব্দে ব্যস্ত সময় পার করছে

নুর ইসলাম নোবেল, ষ্টাফ রিপোর্টার:

টুং টাং শব্দে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কামাররা। চলছে হাঁপর টানা, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামার তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম।

তাই সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের মুখে নেই কোন উচ্ছাস, নেই প্রাণ ভরা হাসি। তারপরও আসন্ন কোরবানির ঈদের কথা মাথায় রেখে নতুন আশায় বুক বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়াগুলো।ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে এমন ব্যস্ততা।

তবে কয়লা, লোহাসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না। কিন্তু পূর্ব পুরুষের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন অনেকে।

প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন কামাররা। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে তাদের জিনিসপত্রের কেনা-বেচা বেড়ে যায়। এ থেকে অর্জিত টাকায় সারা বছরের খোরাক জোগাড় করেন। অথচ বছরের বেশিরভাগ সময়িই কামার শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা একপ্রকার বেকার সময় কাটান।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাপাতি, দা, বটি, চাকু, ছুরি তৈরি এবং পুরোনো অস্ত্র শান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দম ফেলার ফুরসৎ নেই। ঈদ উপলক্ষে লোহার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামার শিল্পীরা। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন সবাই।

অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরই কোরবানীর ঈদে দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ লোহার বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ মৌসুম ঘিরে ভালো আয়-উপার্জন করে থাকেন তারা। তবে এবার হতাশা ঘিরে ধরেছে।

বর্তমানে বেচাকেনা কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের কামার পাড়ার মানিক কর্মকার নামের এক ব্যবসায়ী আক্ষেপের স্বরে বলেন, খদ্দেরই নেই, তার আবার বেচাকেনা! আর কিছু দিন পর ঈদ। অন্যবার এই সময়ে জমে ওঠে দা-বটির বাজার, অথচ এবার বিক্রিই নেই। ক্রেতারা আসছেই না। সারাদিনে দুই তিনটা দা-বটিও বিক্রি হয় না। অন্যান্য কর্মকার জানান লোহা ও কয়লা দাম বেড়ে গেছে বাড়েনি পারিশ্রমিক তবুও বাপ দাদার সুনাম রক্ষা করার চেয়ে এ ব্যবসায় ধরে রেখেছি।

কামার শিল্পীরা বলেন, বছরের এই ঈদ মৌসুমটাই আমাদের মূল টার্গেট থাকে। বছরের কয়েকটা দিন ভালো টাকা, ভালো উপার্জন করার চিন্তা করলে এই দিনগুলা ঘিরেই করা হয়। গত ঈদে কয়েক হাজার টাকা উপার্জন হলেও কারিগরদের বেতন দিয়ে খুব একটা থাকেনি। ভেবেছিলাম কোরবানি কেন্দ্র করে বেশি অর্ডার আসবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন একেবারেই ভিন্ন। অন্যান্য কামার ব্যবসায়ীরাও একই রকম কথা জানান। এখন তাদের আশা ঈদ এগিয়ে আসতে আসতে যদি বিক্রি কিছুটা বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই থেমে না থেকে একের পর এক জিনিসপত্র তৈরী করে চলেছেন তারা।

ক্রেতারা জানান, কয়েক দিন পরেই ঈদ। গরু ও ছাগল জবাই দিতে এবং মাংস কাটতে প্রয়োজন চাকু ও ছুরির। সে কারণে বাজারে এসেছি দা, বটি ও ছুরি কিনতে। তবে গতবছরে এসব জিনিসের যে দাম ছিল তার চেয়ে এবারে দাম খানিকটা বেশি। বর্তমানে প্রতিটি দা তৈরিতে প্রকারভেদে মজুরি নেওয়া হচ্ছে ২৫০-৫৫০ টাকা পর্যন্ত। চাকু তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা। বড় ছুড়ি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ৫০০-৭০০ টাকা।

বটি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। এখনো ঈদুল আযহার বাকি রয়েছে প্রায় ১০ দিন। নবীনগর উপজেলার কামারিদের প্রত্যাশা বাকি সামনে বাজারগুলোতে তাদের বেচাকেনা আরো বাড়বে।


More News Of This Category