বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
Headline :
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি থানা পুলিশ কর্তৃক সিআর পরোয়ানাভু্ক্ত ০১ জন আসামী গ্রেফতার। শিরোনাম:* লিজা আক্তারের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত গজীপুর জেলার কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ফ্যান উপহার গাইবান্ধায় জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রংপুরে ১৭ তরুণীর হাতে বিনামূল্যে ল্যাপটপ হস্তান্তর: চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ১২ নং খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার ৭ নং এলাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ খান

মোহনগঞ্জ পাইলট স্কুলে ভর্তি যুদ্ধ,.

Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

মোহনগঞ্জ পাইলট স্কুলে ভর্তি যুদ্ধ,. মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ স্টাফ রিপোটার,,

একসময় মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানেই ছিল শুধু একটি স্কুলে ভর্তি হওয়া নয়—এটা ছিল একটি স্বপ্নের দরজা খুলে যাওয়ার যুদ্ধ।
শীতের সকাল। কুয়াশা তখনও পুরোপুরি কাটেনি। স্কুলের গেটের সামনে ভোর থেকেই মানুষের ভিড়। কারও হাতে আবেদনপত্র, কারও হাতে কলম, কারও সঙ্গে বাবা, কারও সঙ্গে মা। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে ছেলেরা এসেছে—কেউ নৌকায়, কেউ রিকশায়, কেউ হেঁটে।
সবার চোখে একটাই স্বপ্ন—
“পাইলট স্কুলে পড়ব।”
সেই সময় মোহনগঞ্জের মানুষের কাছে পাইলট স্কুল ছিল শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; ছিল মেধা, শৃঙ্খলা আর ভবিষ্যতের প্রতীক।
ভর্তি পরীক্ষার দিন স্কুলের মাঠ যেন অন্যরকম হয়ে যেত। একদিকে অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা, অন্যদিকে ছোট ছোট ছেলেদের বুক ধড়ফড়। কেউ শেষ মুহূর্তে বই খুলে বসে আছে, কেউ বন্ধুকে জিজ্ঞেস করছে—
—“বাংলা পড়ছিস?”
—“হ্যাঁ।”
—“গণিত?”
—“ওটাও দেখছি!”
কেউ আবার এতটাই নার্ভাস যে, নিজের নামটাও যেন একটু ভুলে যাচ্ছে!
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শুরু হতো আসল অপেক্ষা।
ফলাফল কবে দেবে? কার নাম উঠবে? কে সুযোগ পাবে?
ফল প্রকাশের দিন স্কুলের নোটিশ বোর্ডের সামনে আবার মানুষের ঢল। নিজের নামের খোঁজে ছেলেরা ভিড় ঠেলে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ নাম পেয়ে আনন্দে দৌড়ে বাবার কাছে যাচ্ছে—
—“বাবা, হইছে! আমার ভর্তি হইছে!”
কোনো বাবার মুখে তখন গর্বের হাসি। কোনো মায়ের চোখে আনন্দের পানি।
আবার কারও নাম নেই।
সেই মুখগুলো আজও যেন চোখে ভাসে—হতাশা, কান্না, নীরবতা। কারণ তখন একটি স্কুলে ভর্তি না হওয়া মানে অনেক পরিবারের কাছে ছিল সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় একটা দুশ্চিন্তা।

আর যারা সুযোগ পেত, তাদের কাছে পাইলট স্কুলের ইউনিফর্ম ছিল যেন একটি স্বপ্নের পোশাক।
প্রথম দিন নতুন জামা, নতুন বই, নতুন খাতা নিয়ে স্কুলে ঢোকার সময় বুকের ভেতর কেমন একটা গর্ব কাজ করত।
স্কুলের গেট পেরিয়ে মনে হতো—
“আমি এখন পাইলট স্কুলের ছাত্র!”

মোহনগঞ্জের অসংখ্য পরিবারের কাছে পাইলট স্কুলের ভর্তি শুধু একটি পরীক্ষার নাম ছিল না—
এটা ছিল সন্তানের স্বপ্নকে একটু বড় করে দেখার সাহস।

আজ যারা সেই স্কুলের পুরোনো ছাত্র, তাদের অনেকেই দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন। কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, কেউ সরকারি কর্মকর্তা, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ প্রবাসী।
কিন্তু পরিচয় জিজ্ঞেস করলে অনেকেই আজও গর্ব করে বলেন—
“আমি মোহনগঞ্জ পাইলট স্কুলের ছাত্র।”
সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, জীবন বদলায়।
কিন্তু শৈশবের সেই স্কুলের গেট, ভর্তি পরীক্ষার সেই উত্তেজনা, ফলাফলের সেই অপেক্ষা আর প্রথমবার পাইলট স্কুলের ইউনিফর্ম পরার আনন্দ—
এসবের কোনো বয়স হয় না।
আজও পুরোনো ছাত্রদের মনে সেই স্কুলটি শুধু একটি ভবন নয়;
এটা আমাদের কৈশোরের ঠিকানা, স্বপ্ন দেখার প্রথম পাঠশালা৷


More News Of This Category