মাদক পরিবহনের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে তৈরীকৃত পিকআপ গাড়ীর চেসিসের গোপন চেম্বার থেকে র্যাব-৮ এর অভিযানে প্রায় ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার
(দৈনিক বাংলার সংবাদ মোঃ সোহেল রানা)
র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মজুতদারি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৮, সিপিএসসি, বরিশাল এবং র্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প এর একটি যৌথ আভিযানিক দল অদ্য ০৭ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ০১:১০ ঘটিকার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কয়েকজন মাদককারবারী মাদক বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বড় একটি মাদকের চালান নিয়ে ঢাকা হতে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে আসছে। উক্ত সংবাদের সাপেক্ষে পটুয়াখালী জেলার দুমকী থানাধীন ০১নং লেবুখালী ইউপির অন্তর্গত পায়রা সেতুর টোল প্লাজা সম্মুখে চেকপোষ্ট করাকালীন রাত আনুমানিক ০২:৩০ ঘটিকার সময় বরিশাল হতে পটুয়াখালীগামী একটি নীল সাদা রংয়ের পিকআপ গাড়ী, যার রেজিস্ট্রেশন নং ঢাকা মেট্রো-ঠ ১১-৪৩৯৬, আসতে থাকলে উক্ত গাড়ীটিকে চেকপোষ্টে থামানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। গাড়ীর চালক প্রথমে গাড়ী কিছুটা ধীরগতি দেখিয়ে চেকপোষ্টের কাছাকাছি এসে সজোরে গাড়িটিকে চালিয়ে দুমকি বাউফলগামী সড়কের দিকে যেতে থাকে। তখন র্যাব-৮ এর যৌথ আভিযানিক দলটি র্যাবের পিকআপ গাড়ী নিয়ে উক্ত গাড়িটির পিছু ধাওয়া করে। আনুমানিক ৫/৬ কিলোমিটার ধাওয়া করে পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানাধীন আঙ্গারিয়া বাজারস্থ আঙ্গারিয়া ব্রিজ নামক স্থানে পৌঁছিয়ে দেখা যায়, উক্ত পিকআপটি ব্রিজের উপর রেখে চালক’সহ অন্যরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন এবং উপস্থিত সাক্ষীদের নিকট জানা যায়, উক্ত পিকআপের চালক মোঃ হীরা (৩০), থানা-দুমকি, জেলা-পটুয়াখালী গাড়িটি উক্ত স্থানে রেখে অজ্ঞাতনামা ০২ জন ব্যক্তি’সহ দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। তখন র্যাব-৮ এর যৌথ আভিযানিক দলটি স্থানীয় সাক্ষীদের সহযোগীতায় উক্ত গাড়ীটি তল্লাশী করে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত চেসিসের গোপন প্রকোষ্ঠ থেকে খাকি স্কচটেপ এবং আকাশি নীল রংয়ের পলিথিন দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় মোট ৩২ (বত্রিশ) পোটলা গাঁজা পাওয়া, যায় ওজন প্রায় ৬৬ (ছেষট্টি) কেজি। পরবর্তীতে, উদ্ধারকৃত গাঁজা ও পিকআপ গাড়ীটি’সহ পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানায় মাদকের নিয়মিত মামলা রুজু করে উদ্ধারকৃত আলামত পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে র্যাব-৮, বরিশাল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে র্যাব-৮, বরিশাল এর এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকেব।