জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় নির্বাচনী উত্তাপ এখন প্রকট। তিন লাখ ৭৪ হাজার ভোটার যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য এবার প্রশাসন এক নতুন অধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মাঠের টহল, চেকপোস্ট এবং পুলিশের উপস্থিতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার পাশাপাশি এবার আকাশ থেকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। মণিরামপুরের ভোটকেন্দ্র ও আশপাশ পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে, যা প্রথমবারের মতো এই উপজেলায় দেখা যাচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের ২০টি এলাকা ইতিমধ্যেই ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতীতের নির্বাচনে সহিংসতা ও অশান্তির ইতিহাস বিশ্লেষণ করে এই এলাকা গুলোকে বিশেষ নজরদারি আওতায় আনা হয়েছে। ইউএনও মো. সম্রাট হোসেন জানান, দুর্গম এলাকা বা সিসি ক্যামেরার নাগালের বাইরের কোনো উত্তেজনার খবর পাওয়া গেলে ড্রোন দিয়ে লাইভ ফুটেজ দেখা হবে এবং মোবাইল টিম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া, উপজেলার ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা ভোটকেন্দ্রের আশেপাশের পরিস্থিতি মনিটর করতে সহায়ক হবে।
রেড জোনে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং অন্যান্য যৌথ বাহিনী এই অঞ্চলে নিয়মিত টহল দেবে, চেকপোস্ট স্থাপন করবে এবং সম্ভাব্য অশান্তি প্রতিরোধে উপস্থিত থাকবে। প্রশাসন বলছে, রেড জোন ঘোষণা করার মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগাম সতর্কতার মাধ্যমে অশান্তি প্রতিরোধ করা।
ড্রোনের সাহায্যে লাইভ ফুটেজ পর্যবেক্ষণ, মোবাইল টিমের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা সৃষ্টি করছে। ভোটের আগে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস এবং নিরাপত্তার অনুভূতি জাগাচ্ছে। “আগের নির্বাচনগুলোতে কিছু এলাকা অশান্তি প্রবণ ছিল, এবার প্রশাসনের এই উদ্যোগ আমাদের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে,” বলেন স্থানীয় এক ভোটার।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধুই মাঠে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতন করা হচ্ছে এবং যাচাইবিহীন তথ্য শেয়ার না করার জন্য নিয়মিত বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এতে ভোটাররা বিভ্রান্তি থেকে বাঁচবে এবং ভোট প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছভাবে চলবে।
স্থানীয়দের মধ্যে ভোটের আগের এই প্রস্তুতি ইতিবাচক আলো ফেলেছে। কেউ মনে করছেন, প্রযুক্তি এবং বাহিনীর সমন্বয় ভোট প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করতে সক্ষম হবে। অন্য কেউ বলছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন নজরদারি থাকায় সম্ভাব্য অশান্তি আগেভাগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
মণিরামপুরের এই প্রস্তুতি শুধু ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং ভোটারদের মানসিক নিরাপত্তা এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়াচ্ছে। প্রশাসন চাইছে, প্রতিটি ভোটার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারে, যেখানে কেউ ভয়ের ছায়া ছড়াতে পারবে না। ভোটের এই উত্তাপ এবং সতর্কতা একই সঙ্গে ভোটকে উৎসবমুখর করার চেষ্টা করছে। এই প্রস্তুতি শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ও সফল ভোটের আশা জাগাচ্ছে, যা মণিরামপুরবাসীর জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।