নিজস্ব প্রতিবেদক।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও মিথ্যা পরিচয়ের আড়ালে প্রতারণার অভিযোগ দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমনই এক ঘটনায় মোঃ আবুল হাসেম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যিনি নিজেকে কখনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, কখনো মহাসচিব, কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি “স্মার্ট বাজার লিমিটেড” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে পণ্য সরবরাহের আশ্বাসে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা কোনো পণ্য পাননি, এমনকি টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি প্রায় ২০০ জনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দেন। কিন্তু তিন মাস অতিবাহিত হলেও প্রতিশ্রুত পণ্য না পাওয়ায় তিনি প্রতারিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
এছাড়াও “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিল” নামে একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয়ে জমি উদ্ধার, টাকা উদ্ধার ও আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, এসব সেবার নামে টাকা নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
আরও অভিযোগ রয়েছে, “দৈনিক বাংলার সংবাদ” নামে একটি কথিত দৈনিক বাংলার সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে আইডি কার্ড বাণিজ্য পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ম শ্রেণি পাশ, অযোগ্য ও অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের কে মিথ্যা আশ্বাসে সাংবাদিক তৈরি করছে। সাংবাদিক তৈরির কারিগরি এই কথিত সাংবাদিক আবুল হাসেম। তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আইডি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে, যা গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় নিজেকে রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা বীমা প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন এবং পরবর্তীতে প্রতারণা চালান।
এমন একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত শুরু করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, যাতে তারা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে অর্থ লেনদেন না করেন।