নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে একাধিক ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কথিত সাংবাদিক মোঃ আবুল হাসেম-এর বিরুদ্ধে। নিজেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্মার্ট বাজার লিমিটেড, স্মার্ট গ্রুপ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিল, বাংলার টিভি, মদিনা সনদ বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন, দৈনিক বাংলার সংবাদ-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই কোনো বৈধ সরকারি অনুমোদন বা নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আবুল হাসেম বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে—
শেয়ার বিক্রির নামে অর্থ সংগ্রহ
বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রলোভন
আইনি সহায়তা দেওয়ার নামে টাকা আদায়
জমি উদ্ধার বা দখলমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া
এভাবে শত শত মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে এতদিন ধরে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে? সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি কোথায়—এ নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, এমন কর্মকাণ্ড চালাতে আবুল হাসেমের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারণার শিকার হওয়ার পর তারা নানা জায়গায় অভিযোগ দিলেও এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তারা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কথিত এই প্রতারককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ হয় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বা যুক্ত হওয়ার আগে অবশ্যই তার সরকারি নিবন্ধন, অনুমোদন এবং বৈধতা যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং কঠোর নজরদারি ছাড়া এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়—অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।