রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৭ অপরাহ্ন
Headline :
মধুপুরে মাদক-জুয়া ও সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মতবিনিময় আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ডে তীব্র দুর্গন্ধ, রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ* রৌনাক খান (সরাইল উপজেলা প্রতিনিধি বালিয়াকান্দিতে স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের প্রতিবাদে মতবিনিময় সভা জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা গংগাচড়ায় সোনার দামে বালু, থমকে গেছে উন্নয়ন, উপজেলা প্রশাসন নিরব। বিপাকে কৃষক ও ঠিকাদার এম লিখন সরকার । গংগাচড়া (রংপুর প্রতিনিধি) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তুরাগবাসীসহ দেশবাসীকে আব্দুর রহমান বুলুর শুভেচ্ছা ঢাকায় নিখোঁজ চাঁদপুরের কলেজছাত্রী নাজমা আক্তার, রহস্যময় বার্তায় দুর্ঘটনার দাবি জেমস আব্দুর রহিম রানা, নিজস্ব প্রতিবেদক আদিতমারীতে পুকুরে ডুবে কিশোরীর মৃত্যু, রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সফল অভিযান। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগ ক্রাইম রিপোর্টার সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিতে মিরপুরে জরুরি সভা বিশেষ প্রতিনিধি : নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলার সংবাদ: গোবিন্দগঞ্জে মামলায় গ্রেপ্তার চাঁদমিয়া-মাহাবুরের মুক্তি দাবি। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, পুনঃতদন্তের দাবি। গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

ভিক্ষা নয়, সম্মানজনক জীবনের পথে প্রতিবন্ধী ফাতেমা

Update : সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫
ভিক্ষা নয়, সম্মানজনক জীবনের পথে প্রতিবন্ধী ফাতেমা

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী, বয়স ৭৫ বছর। দুটি পা প্রায় অচল। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে একসময় নেমেছিলেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। আজ সেই পথ ছেড়ে সম্মানের সঙ্গে দোকান চালিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের দামাইক্ষেত্র গ্রামের ফাতেমা বেওয়া।

গত রমজান ঈদে স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি টিনের ঘর এবং ছোট একটি দোকান করে দেওয়া হয় ফাতেমাকে। সেই ঘর ও দোকানে একাই বসবাস ও ব্যবসা করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ভূমিহীন ও গৃহহীন ফাতেমা বর্তমানে সিরাজুল ইসলামের জমিতে এলাকাবাসীর সহায়তায় নির্মিত ঘরে বসবাস করছেন। তাঁর দোকানে প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ টাকার মতো বিক্রি হয়। এই সামান্য আয়ে তিনি কোনোমতে দিন চালান। অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে পারেন না, তখন স্থানীয়দের সহযোগিতার দিকেই তাকিয়ে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ এদের কারণেই কক্সবাজারের বদনাম হচ্ছে

ফাতেমা জানান, এলাকাবাসীর অনুদানে আমাকে একটি টিনের ঘর দিয়েছে। তারেক নামে এক যুবক দোকানে কিছু মালামাল তুলে দিয়েছে। এই দোকানের আয় দিয়েই কোনোমতে বেঁচে আছি। আমার তিন মেয়ে, কষ্ট করে তাদের মানুষ করেছি ও বিয়ে দিয়েছি। তারা কেউ তেমন খোঁজ নেয় না। সরকার যদি একটি ঘর এবং কিছু অর্থ সহায়তা করে, তাহলে চিকিৎসা ও দোকানে আরও কিছু মালামাল তুলতে পারতাম।”

ওই এলাকার মোঃ রেজাউল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ফাতেমা আগে ভিক্ষা করে দিন চলাতেন। এখন আর সে পেশায় নেই। এলাকার কিছু যুবক উদ্যোগ নিয়ে দোকান করে দিয়েছে। এটা খুবই প্রশংসনীয়।”

গ্রামের বাসিন্দা নুরজাহান বেওয়া বলেন, “তার নিজের কোনো জায়গা নেই। অন্যের জমিতে টিনের ঘরে থাকেন। সরকার যদি স্থায়ীভাবে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে, তাহলে তার একটা স্থায়ী ঠিকানা হবে।”

আরেকজন প্রতিবেশী শিরিন আক্তার জানান, একজন প্রতিবন্ধী মহিলা কীভাবে এত কষ্ট করে তিনটা মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে, এটা ভাবলেই চোখে পানি চলে আসে।

এ বিষয়ে নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান (আনিস) বলেন, “ফাতেমা একজন সংগ্রামী নারী। স্বামী মারা যাওয়ার পর মাঠে-ঘাটে কাজ করে তিনটি সন্তান বড় করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে বয়স্ক ভাতা ও ভিজিএফ এর সহায়তা দেওয়া হয়। তবে সমাজের সকলের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো।”

বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তানভীর আহমেদ বলেন, “ফাতেমা বেওয়ার মতো সংগ্রামী মানুষদের পাশে থেকে সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে, যাতে তিনি আরও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন।”


More News Of This Category