কারিমা খাঁন দুলারী
খুলনা জেলা, ফুলতলা
রজনীর জ্যোৎস্নার আস্তরণে
আমি বসে থাকি নীরব নির্জনে—
চাঁদের ধবধবে রূপালিতে
মনের পর্দা খুলে যায় অকারণে।
নীলিমার প্রান্তরে, নক্ষত্রের বুকে
একটা নীরব ডাক বাজে—
মনে হয়, সেই মাধবী লতার লাজুক সুবাস
দক্ষিণা পবনের হিমেল স্রোতে
মনের পাপড়ি ছুঁয়ে যায়।
আমি যেন পাখির ডানা মেলে
পৃথিবী ছাড়িয়ে উড়তে চাই
চাতকের তৃষ্ণা নিয়ে
অদৃশ্য আকাশের আরশিতে
আত্মাকে ডুবিয়ে দিতে চাই।
স্বপ্নগুলো রঙধনুর বর্ণে
মনের গোপন প্রার্থনার মতো
রাঙিয়ে দিতে চাই জীবনকে—
যেন হৃদয়-আকাশে জ্বলে উঠে
ফুলের মতো দীপ্ত নক্ষত্র প্রদীপ।
তবুও অগোচরে অগোছালো ভাবনা
হিমালয়ের গিরিপথে, ঝর্ণার বুকে
বয়ে যায় এক দিশাহারা তরীর মতো।
অতল স্পন্দনের গভীরে
মনের মন্দিরে বিদ্যুতের ঝলক
প্লাবনের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
কালো মেঘ ঢেকে দেয় হৃদয়ের আকাশ—
কাঁচের ফুলদানির মতো অন্তর
চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় ঝড়ের ক্ষণে।
দিনের পর দিন জীবনের ইতিহাস
ঘিরে ধরে বুকের গহ্বর।
যেন বিষাক্ত তীর
হৃদয়-মণিকোঠায় বিঁধে থাকে—
না পারি মরতে, না পারি বাঁচতে
জীবন্ত দগ্ধ নিথর লাশের মতো।
এ ব্যাধি মৃত্যুর পরও নিস্তেজ হয় না—
পৃথিবীর কোথাও এর নিরাময় নেই।
তুমি কি শুনেছো কখনো
ঝড়ে পড়া ফুলের আর্তনাদ?
দেখেছো তাকে মাটির সঙ্গে
অদৃশ্য হয়ে যেতে?
তুমি কি জানো, কত নিষ্পাপ জীবন
নিঃশব্দে ঝরে যায়
না বলা কথাগুলো প্রতিধ্বনির মতো
হৃদয় গহীনে থেকে যায়
কেউ তা শুনতেও পায় না?
বসন্তের হাওয়া যখন বয়ে যায়
কোকিলের কুহু ডাক
হৃদয়ের পাতায় সুবাসিত ফুল ফোটায়—
কারো মনে আলো জ্বালে প্রদীপের মতো,
কারো হৃদয় আকাশে
কালো মেঘের ঝড় বয়ে যায়।
ভালোবাসা পারে জীবনকে
সুন্দর স্বপ্নে ভরিয়ে তুলতে
আবার ধ্বংস করতেও।
অক্লান্ত বাসনার আঁচলে
যখন সব রঙ ফিকে হয়ে যায়
বিরহের ঝড় বুকের গহীনে
কম্পন তোলে।
শুরু হয় যন্ত্রণার প্রতিযোগিতা—
কে মরে, কে বাঁচে কষ্টের মন নিয়ে।
প্রিয়জনকে হারিয়ে
স্বপ্নগুলো মাটির বুকে সমাধি হয়—
তবুও স্মৃতির পাতায়
অদৃশ্য আলো ঝরে।
যেমন মোম গলে গলে
আগুনের তাপে নিঃশেষ হয়—
তেমনি ভালোবাসা
জীবনকে ধীরে ধীরে শূন্য করে।
আজকের ডিজিটাল আধুনিকতায়
ভালোবাসা যেন
আত্মার ক্ষুদ্রতম কোষে
বিষের মতো মিশে যায়।
তবুও,
প্রিয়জনকে পাবার আশা
কখনো শেষ হয় না
যেন আকাশের অতল নীলিমায়
দূরের কোনো প্রদীপ জ্বলে
অন্তরালের রহস্যে।