বুয়েট থেকে পাস করে, ৩৪তম বিসিএস-এর ক্যাডার এবং জনতা ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে প্রাথমিকের শিশুদের পড়ানো সেই নায়লা শারাফ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন!
মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র রিপোটার দৈনিক বাংলার সংবাদ স্টাফ রিপোটার,,
প্রধানমন্ত্রী নায়লার এই সাহসী ও ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তকে তুমুল প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন,
“দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন অনেক সহজ হবে।”
প্রান্তিক শিশুদের জন্য নায়লা যেভাবে নিজের ক্যারিয়ারের মোহ ত্যাগ করে কাজ করছেন, তাতে মুগ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং পরবর্তীতে বুয়েটের মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানে পড়েও বড় ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কোনো ইচ্ছা নায়লার ছিল না। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ধন-সম্পদ বা বড় স্ট্যাটাসের প্রতি তার কোনো মোহ নেই।
গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে আছেন। নায়লা বলেন, পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক পরিবারের অবুঝ শিশুদের যে ভালোবাসা তিনি পান, তার কাছে বিসিএস ক্যাডারের গ্ল্যামার বা ব্যাংকের বড় বেতন কিছুই না!
শিশুদের পড়াশোনা যেন বোরিং না লাগে, সেজন্য নায়লা নিজেই সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকেন, নিজস্ব ডিজিটাল কনটেন্ট বানান এবং সহজ পদ্ধতিতে পড়া প্রস্তুত করেন।
প্রধানমন্ত্রী এই দিনটিতে নায়লা ছাড়াও আরও দুজন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের সঙ্গে দেখা করেন। একজন মো. আলতাফ হোসেন যার জন্ম থেকেই যার দুটি হাত নেই, অথচ পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা শেষ করে নিজের জমি ও জমানো টাকা বেচে স্কুল বানিয়েছেন! প্রধানমন্ত্রী ওনার স্কুলের জন্য নতুন বিল্ডিং করে দেওয়ার সুখবর দিয়েছেন।
আরেকজন, রেজাউল কিবরিয়া বাবুল… ভোলার একজন ইমাম সাহেব, যিনি পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গত তিন দশক ধরে রাস্তার পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে চলেছেন!
তবে বুয়েট আর বিসিএস-এর মতো লোভনীয় ক্যারিয়ার ছেড়ে দেওয়া নায়লার গল্পটি আলাদাভাবেই সবার নজর কেড়েছ,