মানবিক রাষ্ট্রচিন্তা, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ে বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন আজ একটি নতুন উন্নয়ন দর্শন নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকেই স্বাধীনতা, সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের আদর্শে নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, গোষ্ঠীস্বার্থ, দুর্নীতি, ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা এবং অদক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে সেই মূল আদর্শ বহু ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আজ দেশের শ্রমিক, কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শিক্ষক, চাকরিজীবী, তরুণ সমাজ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী—যারা রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি—তারা ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত। রাজনীতি হয়ে উঠেছে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা; পরিবারতন্ত্র, সিন্ডিকেট ও স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। ফলে উন্নত জীবনমান, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশের বর্তমান সংকট কেবল রাজনৈতিক বিভাজন নয়; এটি একটি গভীর কাঠামোগত সংকট। শিক্ষাব্যবস্থা মানহীন ও দক্ষতাহীন হয়ে পড়ায় তরুণরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়বহুল ও অপ্রতুল হওয়ায় সাধারণ মানুষ চিকিৎসা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাজারব্যবস্থা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কৃষকরা উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ও ধীরগতির কারণে মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে।
প্রশাসনে জবাবদিহির অভাব, দুর্নীতি ও অদক্ষতা জনগণের জীবনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। পরিবেশ দূষণ, নদী দখল, বন উজাড় ও জলবায়ু সংকট দেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই সংকট সবচেয়ে বেশি আঘাত হানছে তরুণ প্রজন্মের ওপর—কর্মসংস্থানের অভাব, দক্ষতা উন্নয়নের সীমাবদ্ধতা, বিদেশগামী শ্রম প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি এবং সামাজিক হতাশা তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
এই বাস্তবতা পরিবর্তনের লক্ষ্যেই বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন একটি নতুন মানবিক রাষ্ট্রদর্শন সামনে এনেছে। আমাদের বিশ্বাস—জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সততা এবং সমাধানভিত্তিক নীতি ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
আমাদের প্রধান অঙ্গীকার হলো—জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি মানবিক উন্নয়ন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। শিক্ষা হবে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী; তরুণদের জন্য শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শিক্ষকরা পাবেন যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান।
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। অর্থনীতিতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ, প্রশিক্ষণ ও পুঁজির ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থা আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সাশ্রয়ী করা হবে যাতে প্রতিটি নাগরিক সহজে চিকিৎসা পায়। পরিবেশ সুরক্ষায় নদী দখলমুক্তকরণ, বনায়ন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হবে। নারীর অধিকার, শিশুর নিরাপত্তা, প্রবীণদের সম্মানজনক জীবন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
আমাদের দর্শনের ভিত্তি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—স্বাধীনতা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী চেতনা, জনগণের জাগরণ এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। সময় এসেছে জনগণের অধিকারকে কেন্দ্র করে মানবিক উন্নয়নধর্মী বাংলাদেশ গড়ার। বিদ্যুৎ ফাউন্ডেশন দেশের প্রতিটি নাগরিককে আহ্বান জানায়—পরিবর্তনের এই যাত্রায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করুন।
আমরা এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে চাই—
যেখানে প্রতিটি মানুষ মর্যাদাবান,
প্রতিটি পরিবার নিরাপদ,
প্রতিটি তরুণ কর্মসংস্থানে সক্ষম,
প্রতিটি কৃষক ও শ্রমিক ন্যায্য অধিকারপ্রাপ্ত,
প্রতিটি শিশু নিরাপদ ভবিষ্যতের অধিকারী,
এবং প্রতিটি নাগরিক শান্তি, ন্যায় ও স্থিতিশীলতার মধ্যে জীবনযাপন করতে পারে।
এই নতুন মানবিক উন্নয়ন দর্শনই হবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ নির্মাণের পথনকশা।