বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
Headline :
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি থানা পুলিশ কর্তৃক সিআর পরোয়ানাভু্ক্ত ০১ জন আসামী গ্রেফতার। শিরোনাম:* লিজা আক্তারের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত গজীপুর জেলার কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ফ্যান উপহার গাইবান্ধায় জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রংপুরে ১৭ তরুণীর হাতে বিনামূল্যে ল্যাপটপ হস্তান্তর: চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ১২ নং খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার ৭ নং এলাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ খান

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সৎ ও সফল রাষ্ট্রপতি, যিনি ক্ষমতার চেয়ারকে লা-থি মেরে চলে গিয়েছিলেন..

Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সৎ ও সফল রাষ্ট্রপতি, যিনি ক্ষমতার চেয়ারকে লা-থি মেরে চলে গিয়েছিলেন..
মোঃ মজিবুর রহমান সিনিয়র সটাফ রিপোর্টার।
বাঙালি যেখানে ক্ষমতার একটুখানি চেয়ার পাইলে আঠার মতো লেগে থাকে, সেখানে বাংলাদেশের পলিটিক্যাল হিস্ট্রিতে এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ‘রাষ্ট্রপতি’র চেয়ার পেয়েও বলেছিলেন, “আমার কাজ শেষ, আমি আমার পুরনো চাকরিতে ফেরত যাবো!”
তিনি হলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ…🖤

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশ তখন উত্তাল। সব দল মিলে ঠিক করলো একজন নিরপেক্ষ মানুষকে রাষ্ট্রপ্রধান করতে হবে। সবার চোখ গেলো প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের ওপর। কিন্তু তিনি সাফ না করে দিলেন!
সব দল মিলে ওনাকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হতে জোর করায় তিনি একটা অদ্ভুত শর্ত দেন….
তার শর্ত ছিলো, “আমি কোনো রাজনীতিবিদ নই। অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ নির্বাচন শেষেই আমাকে আবার সুপ্রিম কোর্টে আমার প্রধান বিচারপতির চেয়ারে ফিরে যেতে দিতে হবে!”

১৯৯১ সালে তার অধীনে দেশের অন্যতম সেরা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার পর তিনি যখন ফিরে যেতে চান, দেখা গেল সংবিধানে এমন কোনো নিয়মই নেই! তখন ওনাকে ওনার পুরনো চেয়ারে ফেরত পাঠানোর জন্য সংসদ সদস্যরা বাধ্য হয়ে সংবিধানের ‘একাদশ সংশোধনী’ পাস করিয়েছিলেন।

নির্বাচন শেষ, বিএনপি সরকার গঠন করলো। বেশিরভাগ মানুষ এই ক্ষমতার চেয়ার ছাড়তে চাইতো না বা গুমোট কিছু করতো। কিন্তু বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ নির্বাচন শেষ হওয়া মাত্রই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে এক মুহূর্ত দেরি না করে নিজের প্রিয় বিচারকের আসনে ফিরে যান! পুরো ক্ষমতা হাতে পেয়েও এভাবে হেসে হেসে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া পুরো পৃথিবীতেই বিরল।🖤

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে আবারও রাষ্ট্রপতি করা হয়। কিন্তু তখন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাত-পা প্রায় বাঁধা, মূলত প্রধানমন্ত্রীই সব ক্ষমতার মালিক।
​এই সময় তাকে সাংবাদিকরা তার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি হেসে হেসে বলেন,
​”রাষ্ট্রপতির কাজ কী? দুইটা কাজ… এক হলো প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া, আর দুই হলো প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া। এর বাইরে আমার কাজ হলো মিলাদ পড়া আর কবর জিয়ারত করা!”
​তার এই সোজাসাপ্টা ও রসবোধপূর্ণ উক্তিটি তৎকালীন রাজনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিলো।

১৯৯৬ সালে তিনি আবারও রাষ্ট্রপতি হন।
দেশের ১২ তম রাষ্ট্রপতি….দেশ-বিদেশ থেকে তাকে যত দামি দামি উপহার দেওয়া হতো, তার একটা সুতোও তিনি নিজের পরিবারের জন্য বাসায় নেননি। সব উপহার নিয়ম মেনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে দিয়েছিলেন।🫡

২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ পরাজিত হওয়ার পর দলের অনেক নেতা ওনাকে বিশ্বাসঘাতক বলে বসেন। কারণ ওনার নিরপেক্ষতার কারণে তিনি কাউকে বাড়তি সুবিধা দেননি।
এর জবাবে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন,
“তাদের কথায় সায় দিলে আমি ফেরেশতা, না দিলে শয়তান।”
পলিটিশিয়ানদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বোঝাতে এর চেয়ে নিখুঁত ডায়লগ আর হয় না!

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন ওনার সততা ছিল রূপকথার মতো। বঙ্গভবনের মতো বিশাল রাজপ্রাসাদে থেকেও তিনি আর ওনার পরিবার অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, ওনার দুই মেয়ে তখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়তেন। রাষ্ট্রপতির মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও তারা কোনোদিন সরকারি গাড়ি বা প্রটোকল ব্যবহার করেননি! সাধারণ মানুষের মতো বাসে বা রিকশায় চড়ে তারা ইউনিভার্সিটিতে আসতেন-যেতেন। ভাবা যায়?

খুলনার কুখ্যাত খু** এরশাদ শিকদারের কথা মনে আছে? তার ফাঁ**র আদেশ যখন চূড়ান্ত হয়, তখন এরশাদ শিকদার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিল। কিন্তু বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ ফাইল দেখে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সেই আবেদন খারিজ করে দেন। ওনার ওই এক সাইনেই নিশ্চিত হয়েছিল বাংলার অন্যতম ভয়ংকর অপরাধীর শাস্তি।

তিনি বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুবার রাষ্ট্রপতি হয়েছেন এবং দুইবার ওনার রোল সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। ১৯৯০ সালে প্রথমবার যখন হন, তখন ওনার হাতে ছিল ‘সর্বোচ্চ ক্ষমতা’। আর ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার ওনাকে আবার রাষ্ট্রপতি বানায়, তখন সংবিধান অনুযায়ী ওনার হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না, ওনার রোল ছিল অলঙ্কারিক। কিন্তু দুইবারই তিনি তার নিরপেক্ষতা এক চুলও নষ্ট হতে দেননি।

জাজ মানুষ তো, তাই পলিটিশিয়ানদের একদম সহ্য করতে পারতেন না। ১৯৯৬ সালের পর যখন তিনি রাষ্ট্রপতি, তখন তৎকালীন সরকারের অনেক অন্যায় বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফাইল তিনি আটকে দিতেন। কোনো ফাইল পছন্দ না হলে বা সংবিধানে ঝামেলা থাকলে সরাসরি মুখের ওপর না করে দিতেন। ওনার এই কড়া অ্যাটিটিউডের কারণে অনেক বাঘা বাঘা পলিটিশিয়ানও ওনাকে সমীহ করে চলতেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের একটা উপাধিই হয়ে গিয়েছিলো, “সবচেয়ে কিপটে রাষ্ট্রপতি”….😁
তবে এই কিপটামি তিনি নিজের পকেটের জন্য করতেন না, করতেন দেশের স্বার্থে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা বাঁচাতে! বঙ্গভবনে অপ্রয়োজনীয় যত পদ ছিল, সব বাতিল করে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করেছিলেন।
এমনকি বিদেশে থাকা নিজের ছেলের সাথে ফোনে কথা বলার ১৭০০ টাকা বিল তিনি সরকারি তহবিল থেকে দেননি, নিজের পকেট থেকে দিয়েছিলেন! অথচ নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এই খরচ রাষ্ট্র বহন করার কথা ছিল। সততার কোন লেভেলে থাকলে মানুষ এটা করতে পারে ভাবুন তো…. !

২০০১ সালে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যাননি। রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় একদম নিঃসঙ্গ ও নিভৃত জীবন কাটিয়েছেন।
২০২২ সালের ১৯ মার্চ ৯২ বছর বয়সে তিনি এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।

সাহাবুদ্দিন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশ রাজনীতির এমন এক কিংমেকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি ক্ষমতার মোহ কাকে বলে তা কখনোই বুঝতে চাননি। নির্লোভ, সৎ আর সোজা ব্যাটে ছক্কা মারা এমন মানুষ আমাদের ইতিহাসে বারবার আসে না! 🖤
ক্ষমতা মানুষের চরিত্র নষ্ট করে, কিন্তু এই মানুষটা প্রমাণ করে গেছেন, ব্যক্তিত্ব আর সততা থাকলে ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে বসেও একদম নিখাত থাকা যায়।
স্যালুট টু দ্য ওয়ান অ্যান্ড ওনলি সুপারহিরো জাজ! 🌻

 

#diaryofshe


More News Of This Category