অথই নূরুল আমিন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আজকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে। সে সুবাদে দেশের বিভিন্ন দপ্তর অধিদপ্তর আইন আদালত থেকে শুরু করে প্রায় জায়গায় রদবদল চলছে। দলের ভালো মনের এবং যথেষ্ট যোগ্য জনবল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সাহেব।
আজকের প্রসঙ্গ হলো। ঢাকা উত্তর সিটি এবং দক্ষিণ সিটির যানজট নিরসন নিয়ে। আজকের দিনে ঢাকার এই দুই সিটিতে সবচেয়ে প্রধান প্রধান যে কয়েকটি সমস্যা রয়েছে। তার মধ্যে বড় সমস্যা হচ্ছে যানজট।
এই যানজট সুপরিকল্পিত ভাবে মাত্র ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কমিয়ে আনা সম্ভব। এখানে যে ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে। তাতে কোন অটোরিকশা বা কোন প্রকার গাড়ি , সিএনজি বা বাইক ব্যবহারে সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে না।
পদ্ধতি এক। এখানে সরকার চাইলে অর্থ যোগান দিতে পারে। সেই অর্থের মাসিক মাসোয়ারা সরকার পাবে।
পদ্ধতি দুই। যদি এই অর্থ কোনো কোম্পানি বা ব্যাংক বহন করে। সেখানে সরকার শুধুমাত্র ভ্যাট পাবে।
যে কাজ থেকে এই প্রথম বাংলাদেশ সরকার অথবা চুক্তি ভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে পাবে কোটির বেশি টাকা। বিগত সরকার গুলো রাষ্ট্রীয় যা কাজ করেছে। তার ৯৮% জলে ফেলেছে। যার জন্য প্রবাদ এসেছে। সরকারের মাল দরিয়ায় ঢাল।।
প্রথমে সমগ্র ঢাকা শহরকে ১২ ভাগে ভাগ করা হবে। এখানে শহরের প্রায় প্রত্যেক রাস্তা বা ফুটপাতের দোকানের জন্য “বিল গ্রিল সিস্টেম” স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করা হবে। শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য জায়গায়। শহরের সারাদিনের আবর্জনা সরাতে পাঁচ হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। যার অর্থ দিবে সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সরকারের কোন দায় নিতে হবে না।
যানজট নিরসনের জন্য সমগ্র ঢাকা সিটিকে ১২ ভাগে ভাগ করে। “বোডিং বোট সিষ্টেম” নগরায়ন ওভার স্টং হাইওয়ে রাস্তা তৈরি করা হবে। যার গঠন থাকবে একেক রাস্তায় একেক রকম। তার স্থান এবং চওড়ার উপর নির্ভরশীল।
লক্ষ্য করে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের যানজট যেন আড়াই কোটি ঢাকাবাসী এবং প্রতিদিন মফস্বল থেকে আসা বিভিন্ন কারণে, পঞ্চাশ লাখ মানুষের জন্য গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে । একঘণ্টার রাস্তা যেতে সময় লাগে তিন ঘন্টা। যার ফলে সিএনজি ভাড়া বেশি দিতে হয় যাত্রীদের । লেগুনা ভাড়া, এমনকি রিকশা ভাড়াও এই যানজটের জন্য বিশ টাকা থেকে আশি টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হয় সকল যাত্রীকে।
এছাড়া যারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ঢাকায় অফিস করেন বা ব্যবসা করেন। তাদের ও একশ টাকা থেকে শুরু করে তিনশ টাকার সমমান তেল বেশি ব্যয় হয়ে থাকে। আর সময় তো নষ্ট হচ্ছেই। এদিকে ঢাকার পাইকারি বাজার গুলোতেও বাণিজ্য কম, শুধুমাত্র এই যানজটের জন্য। যানজটের ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী ঢাকায় না এসে তাদের সুবিধামত স্থান থেকেই মার্কেট করে চলে যান।
এদিকে এই যানজটের জন্য কুরিয়ার চালক থেকে শুরু করে, ঢাকা শহরের সিএনজি লেগুনা এবং রিকশা সবাই আর্থিকভাবে সংকটে আছে। এছাড়া শহরের ধুলা বালুতে সকলের জন্য রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। আমার পদ্ধতি মতে যানজটের সাথে সাথে কমে আসবে অপরিচ্ছন্নতা। যে অপরিচ্ছন্নতার কারণে মশার উৎপত্তি সবসময় থাকে এমনকি ডেঙ্গু পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। তখনই এই সিটি গুলোতে যিনি মেয়র বা প্রশাসক থাকেন। তিনি দোষী সাব্যস্ত হোন নগরীর বাসিন্দাদের কাছে।
শহরের ফুটপাতের অগ্রগতি : যেমন ক্ষুদ্র দোকানীদের চরম অবহেলার জন্য বিভিন্ন কাগজ এবং পলিথিন সীমাহীন রাস্তার উপরে জমা হয়, যা দেখার কেউ নেই । তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই পলিথিন কাগজ বা অন্যান্য পদার্থর জন্য রাস্তায় পানি জমে যায় খুব সহজেই । তখন শহরবাসীরা দুর্ভোগে পরেন। আর হাসি তামাশার পাত্র হন নগর পিতা বা পরিচিলকগণ।
যার জন্য শহরের ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে “আই স্টেট পদ্ধতি ” অবলম্বন করে। যার ফলে শহরের ফুটপাত থাকবে পরিস্কার। অন্য দিকে শহরের সীমাহীন গাড়ি থাকাতে হর্ণর শব্দে, শব্দ দোষণ হচ্ছে মারাত্মক ভাবে। যার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারাত্মক ভাবে লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। মেধা বিকাশে বাধা হচ্ছে।
বিশেষ করে ঢাকা শহরের যানজট ৫০% কমিয়ে আনতে হবে। শহরকে বসবাসের যোগ্য করতে হলে। বতর্মানে ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য প্রায়। তাই যানজট নিরসন ও পরিচ্ছন্ন পরিচালক কে সরকারের সহযোগিতা করতে হবে মনে প্রানে। ছয় মাস থেকে এক বছরের ভিতরে জনগণ বুঝতে পারবে, যানজট কমতে শুরু করেছে। এবং পাঁচ বছরের ভিতরে ঢাকা শহর হবে একটি শান্ত শহর। এবং বিশ্বে উন্নত শহরের গননায় সন্তোষজনক তালিকায় নাম আসবে বলে আমার বিশ্বাস। ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে ঢাকা উত্তর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাননীয় দুই মেয়র মহোদয়ের এই মর্মে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের চেষ্টায় বিগত তিন যুগেও ঢাকার যানজট কমেনি। শুধু বেড়েছে। সে সুবাদে আমার গবেষণা টিম কে এরকম কাজের দায়িত্ব দিলে খুব সহজে যেমন পাওয়া যাবে সুফল। তেমনি আসবে সিটি কর্পোরেশনের সীমাহীন রাজস্ব। যা এর পূর্বে কখনও কেউ ভাবেনি। প্রয়োজনে সরাসরি আলোচনা করতে ইচ্ছুক আমার গবেষণা পরিষদ।
বিঃ দ্রঃ প্রয়োজনে সরকারের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে, বাংলাদেশের যানজট কবলিত সকল সিটি এবং নির্দিষ্ট লেন যানজট মুক্ত হবে। কোনরকম পূনর্বাসন না করে অটোরিকশা বন্ধ বা উঠিয়ে দেয়া এবং হকার উঠিয়ে দেয়া এব কাজের জন্য জনগণ মনে করে সরকারের চরম ব্যর্থতা রয়েছে। আধুনিক পরিকল্পনা ছাড়া সুফল পাওয়া খুবই কঠিন। আমাদের সমাজের বাটপার বা প্রতারক ইঞ্জিনিয়ার তথা ঠিকাদার দিয়ে এরকম বৃহৎ কাজে সুনাম অর্জন সম্ভব নয়। পত্রের উত্তর আশা করছি।
পত্র প্রেরক /;অনুলিপি প্রেরন
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
২৩. ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাড়ি নং ৪৩. রোড নং ২ ঢাকা উদ্যান, মোহাম্মদপুর, ঢাকা ১২০৭, মোবাইল : ০১৭৪০৭৭৩১১১