মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা: জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)- এর উদ্যোগে আজ ০৬ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হল-এ এক গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী হামরোগ বিষয়ক সেমিনার সাফল্যের সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে হামরোগের পুনরুত্থান, টিকাদান কার্যক্রমে কিছু চ্যালেঞ্জ এবং জনসচেতনতার ঘাটতি বিবেচনায় এই সেমিনারটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আবু তালহা।
তিনি তার মূল প্রবন্ধে হামরোগের সংক্রমণ প্রবণতা, এর ক্লিনিক্যাল বৈশিষ্ট্য, জটিলতা এবং শিশুদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সময়সম্পন্ন টিকাদানই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়” এবং এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
উক্ত সেমিনারে প্যানালিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক ডা. আহমেদ মুর্তজা চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মো: খয়বর আলী, অধ্যাপক ডা. মো: মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক ডা. রাকিবুল হক খান, ডা. মো: আতিয়ার রহমান।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক ডা. সাজেদ আবদুল খালেক, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, এনডিএফ। ডা. একেএম ওয়ালীউল্লাহ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, এনডিএফ। ডা. এমজি ফারুক হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি, এনডিএফ। ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, জয়েন্ট সেক্রেটারি, এনডিএফ। ডা. এস এম খালেদুজ্জামান, সভাপতি, ঢাকা মহানগরী উত্তর। ডা. একেএম জিয়াউল হক, অফিস সম্পাদক, এনডিএফ। ডা. নাজমুল আরেফিন, কোসাধ্যক্ষ, এনডিএফ। মোঃ শহিদুল ইসলাম, সভাপতি, DUJ.
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি সুস্থ জাতি গঠনের জন্য প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকল্প নেই।” তিনি হামরোগ নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। উক্ত সেমিনার সঞ্চালনা করেন, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের সম্মানিত জেনারেল সেক্রেটারি, বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।
হাম কী এবং হাম কেন বিপজ্জনক ?হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। ছোট ছোট বাচ্চারা, বিশেষ বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে শিশুরা হাম রোগে আক্রান্ত বেশি হয় । এটি কেবল সাধারণ র্যাশ বা ফুসকুড়ি নয়; এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়ার ও মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনকেফেলাইটিস) এর মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে ।