নীলফামারীতে পুকুর থেকে তাজা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি পুকুরের তলদেশ থেকে সক্রিয় (তাজা) একটি হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাবের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধারকৃত এই ভারী গ্রেনেডটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের। পরবর্তীতে র্যাবের একটি বিশেষ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রেনেডটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাসকান্দর ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশির উদ্দিন শাহর পুকুরে গোসল করতে নামেন তানভির ও আনসারুল নামের দুই স্থানীয় যুবক। গোসলের একপর্যায়ে পানির নিচে তানভিরের পায়ে শক্ত এক ধাতব বস্তু স্পর্শ করে। কৌতূহলবশত পানির নিচ থেকে বস্তুটি তুলে আনার পর তা গ্রেনেড সদৃশ মনে হলে স্থানীয়রা এটি পলিথিনে মুড়ে পুকুরপাড়ে নিরাপদে রেখে দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সৈয়দপুর থানায় খবর জানান।
পরবর্তীতে বিষয়টি র্যাবকে অবহিত করা হলে শুক্রবার বিকেলে র্যাব-১৩ (নীলফামারী সিপিসি-২)-এর একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। র্যাবের স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি এ টি এম তৌহিদুল ইসলাম এবং কোম্পানি কমান্ডার আশরাফুল কবিরের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায় গ্রেনেডটি তখনও পুরোপুরি সক্রিয় (লাইভ) ছিল। বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে রংপুর থেকে সার্জেন্ট আব্দুল বারীর নেতৃত্বে র্যাবের বিশেষ একটি বোমা নিষ্ক্রিয়করণ (বোম্ব ডিসপোজাল) দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং সতর্কতার সাথে গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, এটি বহুকাল ধরে পানির নিচে সংরক্ষিত ছিল। প্রাথমিক আলামত ও গঠন দেখে তাদের ধারণা—ভারী এই গ্রেনেডটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালের হতে পারে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিরাপদ রয়েছে।