সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন
Headline :
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত: গ্রামের মেঠোপথ থেকে কৃষি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস ও সামাজিক দায়বদ্ধতা,,, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল। ‘সময়ের আলোকে’ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, আমরা ইউপি নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত আছি। আসলে আমরা তো নভেম্বরের জন্যই প্রস্তুত ছিলাম। সুতরাং আমাদের সবই রেডি আছে। কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোট। ভোটের ৪০ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। আব্দুর রহমানেল মাছউদের তথ্য অনুযায়ী ভোটের ৪০ দিন আগের হিসাব করলে ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা। নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরি/স্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার নিয়োজিত থাকবে। সেনাবাহিনী থাকবে না। কিন্তু প্রথম ধাপে যদি বেশি সহিংসতা দেখা যায় তা হলে পরের ধাপের নির্বাচনে সেনাবাহিনী বিবেচনা করতে পারি। তবে নরমাললি সেনাবাহিনী থাকবে না। ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। গত ১৩ অক্টোবর ইসির ১৩তম কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষ/দের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। ইউপির জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ : স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪২৫টি। উল্লেখিত কেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬টি ভোটকেন্দ্র, পৌরস/ভা নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ২০২টি ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর জন্য আলাদা করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের প্রয়োজন হয়নি ইসির। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন। আচরণ বিধি প্রকাশ : ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ সব স্তরের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিলবোর্ডের সীমা নির্ধারণ, ভোটারদের এনআইডি-মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা, ধ/র্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, ভোটারকে প্রভাবিত করতে ব/লপ্রয়োগ ও অর্থ ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞা, প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ না নেওয়া, নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি না করা, সাদা-কালো প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করাসহ একগুচ্ছ নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ইসি। এসব নিয়ম না মানলে কিংবা আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থীকে জরিমানা ও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছে ইসি। এর বাইরেও নির্বাচনিসামগ্রী কেনাকাটাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। এদিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর দলীয় প্রতীকবিহীন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউপি নির্বাচন। তাই ইউপি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী অংশ নিতে পারবে। যদিও দল থেকে যেকোনো একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলগুলো। এরপরও নির্বাচনে জিততে হলে দল সমর্থিত প্রার্থীকে নিজ দল এবং বিরোধী দলের একাধিক প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য ইউপি নির্বাচনে পেশিশক্তির আশ/ঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স/হিং/স/তা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে কমিশন। তাই এবার নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সাবেক কমিশন, কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে ইসি। এর ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করতে যাচ্ছে তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে অনেক মানুষ মা/রা যায়। অনেক স/হিং/স/তা হয়। এবার যাতে সে পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় বা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা কোনো হাঙ্গামা না করে এ বিষয়ে আগামী মাসে আমরা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসব এবং সবার সহযোগিতা কামনা করব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিটিং হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৪৯৭টি। এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩১টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ ও ৪৫৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগই নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদও হয়ে পড়ে জনপ্রতিনিধিহীন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই চলছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। ত্রিশালে যুব দিবসে যুব সংগঠক এন,এম জহিরুল ইসলাম কে সম্মাননা স্মারক প্রদান যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধে করা রিট পিটিশন মামলা প্রত্যাখান করেছেন হাইকোর্ট। ধর্মপাশায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। ১৬শ’ ৪৭জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মেরিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত সন্তানকে সুশিক্ষিত করতে অভিভাবকদের ভূমিকা অপরিসীম- সফিকুর রহমান সফিক সাতক্ষীরার তালায় ৫ নভেম্বর শান্তি ও আরোগ্যদায়ী সভা দেশে-বিদেশে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করছে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদ।

দেশে-বিদেশে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করছে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদ।

Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

দেশে-বিদেশে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করছে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদ।

ফ্রি পরামর্শ, সচেতনতামূলক প্রচার ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় বিশ্বব্যাপী সংগঠনটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, প্রতারণা, হয়রানি ও বিপদে সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদ’। বিনামূল্যে পরামর্শ প্রদান, সচেতনতামূলক সতর্কবার্তা প্রচার এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে সংগঠনটি ইতোমধ্যে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংগঠনটির মূল লক্ষ্য হলো—দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত মানুষ যেন যেকোনো ধরনের সমস্যায় একা হয়ে না পড়েন। প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আর্থিক প্রতারণা, দালালের হয়রানি, ভিসা ও চাকরিসংক্রান্ত জটিলতা, সামাজিক সমস্যা এবং বিভিন্ন ধরনের অন্যায়-অনিয়ম সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বিপদে পড়লে তার সমস্যা তুলে ধরা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা পাওয়ার পথ দেখানো।
সংগঠনটির উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা ও সতর্কবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সংগঠনের কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।
সংগঠনটির সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে নতুন সদস্যরা যুক্ত হচ্ছেন। সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করাই অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো সদস্য কিংবা সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লে অন্য সদস্যরা যেন দ্রুত তার পাশে দাঁড়াতে পারেন, সে লক্ষ্যেই একটি সহযোগিতামূলক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের জুন মাসে ১০১ জন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রানা। প্রবাসে অবস্থান করেও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় থেকে তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর পরিকল্পনা হলো, দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে থাকা সচেতন ও মানবিক মানুষদের একত্রিত করে ভুক্তভোগীদের সহযোগিতায় একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি শুধু একটি সদস্যভিত্তিক সংগঠন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা, সচেতনতা ও মানবিক সহযোগিতার একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। বিশেষ করে যারা প্রতারণা, হয়রানি কিংবা বিভিন্ন সমস্যার কারণে অসহায় অবস্থায় পড়েন, তাদের কথা তুলে ধরতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে সংগঠনটি কাজ করতে আগ্রহী।
এ ছাড়া প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা, বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই, দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকা এবং যেকোনো আর্থিক লেনদেনে সচেতন হওয়ার বিষয়ে সংগঠনটি নিয়মিত সতর্কবার্তা প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে।
সংগঠনটির প্রত্যাশা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের সচেতন নাগরিকরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মানবিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। দল, মত, ধর্ম, পেশা কিংবা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে অসহায় ও ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে সংগঠনের অন্যতম অঙ্গীকার।
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম রানা বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়। দেশে ও প্রবাসে যারা বিভিন্নভাবে প্রতারণা, হয়রানি কিংবা অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা চাই, একজন প্রবাসী বিপদে পড়লে আরেকজন প্রবাসী যেন তাঁর পাশে দাঁড়ান। দেশের মানুষও যেন প্রবাসীদের সমস্যায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক, ঐক্যবদ্ধ ও সহযোগিতামূলক সমাজ গড়তে চাই।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে অনলাইন ও অফলাইনে সদস্য সংগ্রহ, সচেতনতামূলক প্রচার এবং ভুক্তভোগীদের সহযোগিতার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। মানুষের যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সংগঠনটি যথাসাধ্য সহযোগিতা ও সঠিক পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবে।
‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদ’-এর মূল প্রত্যয়—প্রবাসী ও দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায়, প্রতারণা ও হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
মানবিকতা, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশে-বিদেশে অসহায় মানুষের আস্থার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠাই সংগঠনটির প্রত্যাশা।


More News Of This Category

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল। ‘সময়ের আলোকে’ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, আমরা ইউপি নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত আছি। আসলে আমরা তো নভেম্বরের জন্যই প্রস্তুত ছিলাম। সুতরাং আমাদের সবই রেডি আছে। কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোট। ভোটের ৪০ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। আব্দুর রহমানেল মাছউদের তথ্য অনুযায়ী ভোটের ৪০ দিন আগের হিসাব করলে ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা। নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরি/স্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার নিয়োজিত থাকবে। সেনাবাহিনী থাকবে না। কিন্তু প্রথম ধাপে যদি বেশি সহিংসতা দেখা যায় তা হলে পরের ধাপের নির্বাচনে সেনাবাহিনী বিবেচনা করতে পারি। তবে নরমাললি সেনাবাহিনী থাকবে না। ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। গত ১৩ অক্টোবর ইসির ১৩তম কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষ/দের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। ইউপির জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ : স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪২৫টি। উল্লেখিত কেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬টি ভোটকেন্দ্র, পৌরস/ভা নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ২০২টি ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর জন্য আলাদা করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের প্রয়োজন হয়নি ইসির। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন। আচরণ বিধি প্রকাশ : ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ সব স্তরের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিলবোর্ডের সীমা নির্ধারণ, ভোটারদের এনআইডি-মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা, ধ/র্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, ভোটারকে প্রভাবিত করতে ব/লপ্রয়োগ ও অর্থ ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞা, প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ না নেওয়া, নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি না করা, সাদা-কালো প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করাসহ একগুচ্ছ নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ইসি। এসব নিয়ম না মানলে কিংবা আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থীকে জরিমানা ও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছে ইসি। এর বাইরেও নির্বাচনিসামগ্রী কেনাকাটাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। এদিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর দলীয় প্রতীকবিহীন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউপি নির্বাচন। তাই ইউপি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী অংশ নিতে পারবে। যদিও দল থেকে যেকোনো একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলগুলো। এরপরও নির্বাচনে জিততে হলে দল সমর্থিত প্রার্থীকে নিজ দল এবং বিরোধী দলের একাধিক প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য ইউপি নির্বাচনে পেশিশক্তির আশ/ঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স/হিং/স/তা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে কমিশন। তাই এবার নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সাবেক কমিশন, কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে ইসি। এর ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করতে যাচ্ছে তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে অনেক মানুষ মা/রা যায়। অনেক স/হিং/স/তা হয়। এবার যাতে সে পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় বা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা কোনো হাঙ্গামা না করে এ বিষয়ে আগামী মাসে আমরা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসব এবং সবার সহযোগিতা কামনা করব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিটিং হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৪৯৭টি। এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩১টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ ও ৪৫৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগই নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদও হয়ে পড়ে জনপ্রতিনিধিহীন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই চলছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল। ‘সময়ের আলোকে’ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, আমরা ইউপি নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত আছি। আসলে আমরা তো নভেম্বরের জন্যই প্রস্তুত ছিলাম। সুতরাং আমাদের সবই রেডি আছে। কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোট। ভোটের ৪০ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। আব্দুর রহমানেল মাছউদের তথ্য অনুযায়ী ভোটের ৪০ দিন আগের হিসাব করলে ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা। নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরি/স্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার নিয়োজিত থাকবে। সেনাবাহিনী থাকবে না। কিন্তু প্রথম ধাপে যদি বেশি সহিংসতা দেখা যায় তা হলে পরের ধাপের নির্বাচনে সেনাবাহিনী বিবেচনা করতে পারি। তবে নরমাললি সেনাবাহিনী থাকবে না। ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। গত ১৩ অক্টোবর ইসির ১৩তম কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষ/দের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। ইউপির জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ : স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪২৫টি। উল্লেখিত কেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬টি ভোটকেন্দ্র, পৌরস/ভা নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ২০২টি ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর জন্য আলাদা করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের প্রয়োজন হয়নি ইসির। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন। আচরণ বিধি প্রকাশ : ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ সব স্তরের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিলবোর্ডের সীমা নির্ধারণ, ভোটারদের এনআইডি-মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা, ধ/র্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, ভোটারকে প্রভাবিত করতে ব/লপ্রয়োগ ও অর্থ ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞা, প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ না নেওয়া, নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি না করা, সাদা-কালো প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করাসহ একগুচ্ছ নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ইসি। এসব নিয়ম না মানলে কিংবা আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থীকে জরিমানা ও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছে ইসি। এর বাইরেও নির্বাচনিসামগ্রী কেনাকাটাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। এদিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর দলীয় প্রতীকবিহীন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউপি নির্বাচন। তাই ইউপি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী অংশ নিতে পারবে। যদিও দল থেকে যেকোনো একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলগুলো। এরপরও নির্বাচনে জিততে হলে দল সমর্থিত প্রার্থীকে নিজ দল এবং বিরোধী দলের একাধিক প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য ইউপি নির্বাচনে পেশিশক্তির আশ/ঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স/হিং/স/তা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে কমিশন। তাই এবার নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সাবেক কমিশন, কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে ইসি। এর ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করতে যাচ্ছে তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে অনেক মানুষ মা/রা যায়। অনেক স/হিং/স/তা হয়। এবার যাতে সে পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় বা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা কোনো হাঙ্গামা না করে এ বিষয়ে আগামী মাসে আমরা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসব এবং সবার সহযোগিতা কামনা করব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিটিং হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৪৯৭টি। এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩১টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ ও ৪৫৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগই নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদও হয়ে পড়ে জনপ্রতিনিধিহীন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই চলছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।