সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
Headline :
লিচু দেওয়ার প্রলোভনে শিশুকে ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, বখাটে যুবক গ্রেফতার। যেসব কারণে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদের মান-মর্যাদা। রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি’র অভিযানে মিঠাপুকুরে ৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ০১ (এক) জন মাদক কারবারি আটক রুবিওর দিল্লি সফরে ট্রাম্পের ফোন: ‘ভারত যা চায় তাই পাবে’ — বাংলাদেশ ইস্যুতে কী বোঝাপড়া? মুজিব বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও দালিলিক প্রমান। প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের শোক প্রকাশ জিয়ার হ্যাঁ/না ভোটরঙ্গ : ভোটারদের অভিজ্ঞতার আলোকে ভারতে চামড়া পাচার রোধে হিলি সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, টহল জোরদার। আমতলীতে ৬৯৯ পরিবারের মাঝে ইসলামিক রিলিফের কুরবানির মাংস বিতরণ।

“দেশে চাঁদাবাজ নাই, আছে গুজব ও হুজুগ”

Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

মো: আকবর হোসেন ফাইটন
চেয়ারম্যান, নতুন বাংলা সাধারণ জনতার জোট……………
বর্তমানে চাঁদাবাজির নামে যে নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে, তা মূলত একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশেষ করে ড. কামরুল ইসলাম পরিচালিত হাসপাতালকে ঘিরে যে অভিযোগগুলো প্রচার করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার আড়ালে সাজানো একটি নাটক ছাড়া কিছুই নয়। প্রকৃত সত্য হলো—এই হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে টেস্ট, ওষুধ, আইসিইউ, অপারেশন, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সিরিয়াল, এমনকি রোগীর আবাসন ও খাবার পর্যন্ত—সবকিছুই ছিল একটি সুসংগঠিত লুটপাটের অংশ।
রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে একই ওষুধ বারবার বিক্রি, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ গোপনে ফার্মেসিতে ফেরত পাঠানো, আইসিইউতে ওষুধ ব্যবস্থাপনায় গোপন কারসাজি, এবং একাধিকবার একই পরীক্ষা বাতিল করে নিজস্ব ল্যাবে করানোর মতো জঘন্য অনিয়ম এখানে নিয়মিত ঘটেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি একটি প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতির মডেল।
ড. কামরুল ইসলাম অতীতে শেখ হাসিনার সময় বিশেষ সম্মাননা পদকপ্রাপ্ত—এবং সেই সময় তার চারপাশে ছিল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলদারিত্ব। বাস্তবে হাসপাতালটি পরিচালিত হতো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, আওয়ামী ট্যাগ থেকে বাঁচার জন্য তিনি স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের ব্যবহার করেন। এখন আবার ধীরে ধীরে আগের লোকজনকে পুনর্বাসন করে, নতুনদের ওপর “চাঁদাবাজ” তকমা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার নোংরা খেলা শুরু হয়েছে।
এটি শুধুমাত্র বেইমানি নয়—এটি চরম রাজনৈতিক প্রতারণা।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—যদি হাসপাতালের ল্যাব, ফার্মেসি ও আইসিইউ বিভাগের প্রতিদিনের হিসাব নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাব, সম্পদের উৎস ও জীবনযাত্রা খতিয়ে দেখা হয়, তাহলে এই দুর্নীতির আসল চেহারা জাতির সামনে উন্মোচিত হবে।
অতীতের একটি ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা—এটি শুধু রাজনৈতিক হীনমন্যতা নয়, বরং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি জঘন্য অপচেষ্টা। দুঃখজনকভাবে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে এসব গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষও এই ষড়যন্ত্রের অংশ হয়ে যাচ্ছে।
আমরা বিরোধী দল হিসেবে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই—রাজনীতি মানে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা নয়। দেশের সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
বেইমানিরও একটি সীমা থাকা উচিত।
সত্যকে আড়াল করে মিথ্যার রাজনীতি বেশিদিন টিকে না।
অতএব, এই গুজব, হুজুগ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
মো: আকবর হোসেন ফাইটন
চেয়ারম্যান
নতুন বাংলা সাধারণ জনতার জোট


More News Of This Category