(মো সোহেল রানা)
খুলনা ৪ আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, আমি বিএনপির এমপি নই, আমি তেরখাদা, দিঘলিয়া ও রূপসায় বসবাসকারী সকল মানুষের এমপি।
বিএনপির চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তেরখাদায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করে রূপসা ও দিঘলিয়ায় তা ছড়িয়ে দিতে চাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. বি. এম. সারোয়ার রাব্বীর সভাপতিত্বে বুধবার ( ২৫ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে তেরখাদা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সকল সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
উপজেলা চত্বরে বনজ বৃক্ষ রোপণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন এমপি আজিজুল বারী হেলাল। মতবিনিময় সভায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল বলেন,মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার অবস্থান আপসহীন। অপরাধী যদি নিজের দলের কিংবা আত্মীয়ও হয়, তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
তবে কোনো নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়,সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন ও ব্যবহারে সবাইকে অভ্যস্ত করতে হবে।
জলমহল ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও ন্যায্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে প্রকৃত জেলেরা উপকৃত হয় এবং কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী সুবিধা নিতে না পারে। প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে প্রকল্প এনে তেরখাদাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের বিকল্প নেই।
খাল খনন প্রসঙ্গে এমপি আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তেরখাদায় বহু পরিত্যক্ত জমি ও ভরাট হয়ে যাওয়া খাল রয়েছে, যা পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারে আনা গেলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ-তিন ক্ষেত্রেই বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।
খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন ও বর্ষাকালে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব উল্লেখ করে তিনি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খালের তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মো: সাইদুজ্জামান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ; এস. এম. নুরুন্নবী, সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) ;
ডা: মুজাহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ; কন্টিনজেন্ট কমান্ডার, বাংলাদেশ নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট, তেরখাদা ; শিউলি মজুমদার, উপজেলা কৃষি অফিসার ; মোঃ মেহেদী হাসান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ; ভাস্কর মৃধা, উপজেলা প্রকৌশলী ;
এম. এম. মতিয়ার রহমান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ;লিদাম পল বালা, আইসিটি অফিসার ; সৈয়দ তালহা আশরাফ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা;মোঃ মাসুদ রানা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা; এমডি আব্দুল হাই, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা; অতীশ সরদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস.এ. আনোয়ার উল কুদ্দুস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ; মোঃ মঞ্জুরুল কবীর, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ;
নাজমুল হক, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ; হানিফ শিকদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা;প্রজিত সরকার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ( জনস্বাস্থ্য ) ; কেরামত আলী, উপজেলা পরিবেশ ও বন কর্মকর্তা;মো. শহীদুল্লাহ, অফিসার-ইন-চার্জ ;সৌমেন সরকার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ; পলাশ কুমার দাশ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার ; মোঃ আবু সাঈদ মল্লিক, উপজেলা সহকারী নির্বাচন অফিসার ; শেখ ইকবাল হোসেন, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা; পুরবী রাগী বালা ( অতিরিক্ত দাঃ ), উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক; অরুপ আচার্য, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার; আবুফা খাতুন, উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা ; মোঃ তৌফিক ওমর, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১;
মোছাঃ তাসলিমা খাতুন, উপজেলা তথ্য কেন্দ্র ( তথ্য আপা ) কর্মকর্তা; মোঃ নজিবুর রহমান, ইন্সট্রাক্টর; উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার; মুক্তা মন্ডল, শাখা ব্যবস্থাপক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক,
স্বপন ব্যাপারী, উপজেলা আনসার ও ভিলেজ ডিফেন্স কর্মকর্তা; মিজানুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড;আধয়ী ব্রাতা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, খাদ্য গুদাম; রাধেশ্যাম ঘোষ, একাডেমিক সুপারভাইজার; মোঃ পারভেজ মোশারফ উপজেলা পোস্ট মাস্টার; মোঃ নাজমুল ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ ;গোবিন্দ কুমার দে সহকারী উপ-যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা; মোজাফফার হোসাইন সহকারী উপ-যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা; জাহাঙ্গীর আলম উপ-সহকারী প্রকৌশলী এলজিডি; সমীর কুমার দাশ সহকারী শিক্ষা অফিসার ; কেরামত আলী সহকারী উন্নয়ন অফিসার; ডা: জমিত রায় প্রাণীসম্পদ সম্প্রসারণ অফিসার; মোহসিন হাওলাদার উপজেলা ফরেস্ট অফিসার।
বিকাল সাড়ে ৩টায় তিনি তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের খোঁজখবর নেন। জরুরি ওষুধ ও স্বাস্থ্য সরঞ্জামের ঘাটতির কথা জানালে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহের আশ্বাস দেন।একইসঙ্গে হাসপাতালের জরাজীর্ণ অফিস কক্ষ পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এমপি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়াতে যা যা প্রয়োজন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তা নিশ্চিত করবো। জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি থাকবে না। চিকিৎসা সেবায় অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।তিনি তেরখাদায় কয়টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে এবং কোথায় নেই—তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দ্রুত তৈরির নির্দেশ দেন