“তারাকান্দায় ভাতিজার হাতে চাচা খুন”
আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টার দিকে উপজেলার বিষকা নোগুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত একরামুল (৪৫) উপজেলার বিষকা নোগুয়া গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে। অভিযুক্ত আল আমিন নিহতের বড় ভাইয়ের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একরামুলের সঙ্গে তার বড় ভাইয়ের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছিল।
রোববার দুপুরে গ্রামের এক প্রতিবেশীর জানাজায় অংশ নিতে বাড়ি থেকে বের হন একরামুল। জানাজায় যাওয়ার পথে কিছা বাজার এলাকায় তার বড় ভাই ও ভাতিজা আল আমিনের সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় পূর্বের বিরোধের জের ধরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের একপর্যায়ে আল আমিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে একরামুলকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর বিষকা নোগুয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোবারক হোসেন জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।