ডাম্পিং ছাড়াই ব্লক পিচিংয়ের অভিযোগ, সাঘাটায় নদীগর্ভে বিলীন তীররক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লক
মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের হলদিয়া প্যাকেজ-১০ এলাকায় ব্লক ধস ও নদীভাঙনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ব্লক ডাম্পিং সম্পন্ন না করেই ব্লক পিচিং (প্লেসিং) করায় প্রকল্পের একটি বড় অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, হলদিয়া প্যাকেজ-১০ এর ৩৭৫ মিটার স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা কাজের একটি বড় অংশে স্থাপন করা সিসি ব্লক নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এ ঘটনায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নদীভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যেতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, টেন্ডার আইডি-১১৪৮৮৬৭ এর আওতায় গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের মেয়াদ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্লক ডাম্পিং না করেই ব্লক পিচিং সম্পন্ন করেছে। এছাড়া ব্লকের নিচে ব্যবহৃত ম্যাট, বালু ও খোয়ার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত পরিমাণ ও মান বজায় না রেখেই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রকৌশলী রাশেদ খান বলেন, “নদী প্রতিরক্ষা কাজে ব্লক ডাম্পিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ব্লকের তলদেশকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল রাখে। কিন্তু ডাম্পিং ছাড়া পিচিং করায় নদীর স্রোতে নিচের মাটি সরে গিয়ে ব্লকগুলো ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় পুরো প্রকল্পই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”
এলাকার বাসিন্দা হাশেম মিয়া বলেন, “ভাঙন যেভাবে শুরু হয়েছে, দ্রুত প্রতিরোধ করা না গেলে আমাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাবে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি।”
এদিকে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কোনো তথ্যসম্বলিত বিলবোর্ড দেখা যায়নি। এমনকি ব্লক তৈরির স্থানেও প্রকল্পের নাম, ব্যয়, মেয়াদ ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “এখনও ডাম্পিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। ভাঙনকবলিত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।”
ডাম্পিং কাজ বিলম্বিত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “প্রকল্পের নির্ধারিত সময় এখনও শেষ হয়নি।” তবে প্রকল্প এলাকায় বিলবোর্ড না থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ব্লক তৈরির স্থানে বিলবোর্ড রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রকল্পের কাজের মান, তদারকি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা প্রকল্পের কাজের গুণগত মান যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।