নন্দিনী হত্যা মামলায় আদিতমারীতে পুলিশের ওপর হামলায় আসামীর সংখ্যা দেড় হাজার,পুরুষরা আতঙ্কে ঘর ছাড়া,
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
মামলার পর থেকে গ্রেফতার এর আতঙ্কে লালমনিরহাট জেলা আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী এলাকার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গ্রেপ্তারের আতঙ্কে থম থমে পরিবেশ বিরাজ করছে।ওই সকলে এলাকায় অধিকাংশ পুরুষরাই গ্রেফতার এর আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয় বাড়িতে আত্মগোপনে চলে গেছে।
।লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু কন্যা নন্দিনী হত্যার মরা দেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধারের জেরে পুলিশের উপর হামলা সরকারি গাড়ী ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনার দায়ের করা পৃথক পৃথক দুইটি মামলায় অজ্ঞাতনামা দেড় হাজার পুরুষকে আসামি করা হয়।এই মামলা বুধবার রাতেই আদিতমারী থানার পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকেই ফলিমারী এলাকার পুরুষেরা গ্রেফতারের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয় বাড়িতে আত্মগোপনে চলে গেছে। পুরো এলাকায় এখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।এদিকে,শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র রায়,আদালতে হত্যার দায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
এলাকা জুড়ে আতঙ্ক, পুরুষেরা আত্মগোপনে চলে গেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফলিমারী এলাকার গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে জানা ও দেখা যায়,অধিকাংশ বাড়িতেই পুরুষেরা ঘর শূন্য।পুলিশের গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে।নারী পুরুষ ও বৃদ্ধরাও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে রয়েছেন।
তবে পুলিশ জানিয়েছেন, নিরাপধ কাউকে হয়রানী করা হবে না।
গত ১৬ই জুন আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে প্রথম শ্রেণীর নন্দিনী রানীর বস্তাবন্দী মরদেহ মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করেছে।নিহত নন্দিনী ওই এলাকার শ্রী নলেনি কান্ত বর্মনের মেয়ে।আগের দিন বিকেল থেকে নন্দিনীর নিখোঁজ হওয়ার পর দিন মরা দেহ বস্তা বন্দী অবস্থায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে পুলিশ উদ্ধার করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্গ হয়েছে।
আহত পুলিশের সংখ্যা ১৮,
পুলিশ জানায়,এই ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ সুপার,জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,সাংবাদিকসহ, প্রশাসনের উদ্বোধন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামি বিধানচন্দ্রকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ আতরকৃতভাবে ইট পাটকেল ও লাঠি সোটা দিয়ে উত্তেজিত জনতারা হামলা চালায়।এতে জেলা প্রশাসকের,পুলিশ সুপার,উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি গাড়ি সহ একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে ও ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা,পুলিশ ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগে পিতা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র বর্মনকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।একই ঘটনায় আসামি বাবাকেও গ্রেফতার হয়েছে মা পলাতক রয়েছেন।
লাল মিয়া জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন,হামলাও ভাঙচুরের জড়িতদের সনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ফুটেজ সহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সনাক্ত করা হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তিনি বলেন,নিরপরাধ কাউকে হয়রানী ও গ্রেপ্তার করা হবে না।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ফলিমারী গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ প্রশাসন বিজিবি সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে।