ঠাকুরগাঁওয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, মা-ছেলে গ্রেপ্তার
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
২৪ জুন, ২০২৬
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আসামির স্বজন ও সহযোগীদের হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এতে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পূর্ব ফকদনপুর কালিতলা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্টের একটি চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. সুমনকে (৪২) গ্রেপ্তারের জন্য সদর থানার এএসআই মো. সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে নামেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কালিতলা বাজার এলাকা থেকে আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সুমনকে গ্রেপ্তারের পরপরই তার স্বজন ও সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশ সদস্যদের চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
হামলায় সদর থানার এএসআই মো. সারোয়ার জাহান ও কনস্টেবল মো. আব্দুস সালাম আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা থানায় খবর দিলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে।
আহত পুলিশ সদস্যদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারা থানায় ফিরেছেন।
এ ঘটনায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মূল আসামি মো. সুমন ও তার মা পারুল বেগমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সাথে জড়িত অন্য অভিযুক্তরা সুযোগ বুঝে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এএসআই সারোয়ার জাহান বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী জানান, সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”