শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
Headline :
জালিয়াতির দায়ে ‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল জারি। বদর, অল্পের জয়ে মহাকালের ইতিহাস। তেরখাদার উন্নয়নে ঐক্যের আহ্বান সমিতি বিভক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধানমন্ডিবাসীর দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইডিয়াল ক্রিকেট গার্ডের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। সাহায্যের আবেদন। জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্ক নয়: সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপিসির নির্দেশনা। বিতর্কিত বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রূপ ধারণ কারী। আসাদিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের ৪ মাসের কারাদণ্ড, উলিপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

জালিয়াতির দায়ে ‘প্রতিদিনের কাগজ’ এর প্রকাশনা বন্ধে হাইকোর্টের রুল জারি।

Reporter Name / ৭ Time View
Update : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক: কাজী মাহাবুব আলম।

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে প্রকাশিত দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকাটির প্রকাশনা কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালতের এই আদেশের পর এবং পত্রিকাটির মালিকানা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ পাঠকদের মনে এখন বড় প্রশ্ন— ‘প্রতিদিনের কাগজ, তুমি কার?’

গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। সম্প্রতি আদেশের অনুলিপিটি প্রকাশ্যে আসায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘প্রতিদিনের কাগজ’ পত্রিকাটির দাপ্তরিক ডিক্লেয়ারেশনে সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে মাহমুদুল হাসান রতন-এর নাম নিবন্ধিত রয়েছে। অথচ দীর্ঘ দিন ধরে পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে (পত্রিকার শেষ পাতায় মুদ্রণ সংক্রান্ত তথ্য) সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে ইয়াসমিন শীলা এবং ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে খায়রুল আলম রফিক-এর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিক্লেয়ারেশনের বাইরে ভিন্ন কাউকে সম্পাদক বা প্রকাশক হিসেবে প্রচার করা ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন, ১৯৭৩’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মূলত এই জালিয়াতি ও অস্পষ্টতার কারণেই পত্রিকাটির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

 

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সাবেক সাবেক সহ-সম্পাদক এবং দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলামের দায়ের করা রিট পিটিশনের (নম্বর: ১৮২৫১/২০২৫) প্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে নিম্নলিখিত বিষয়ে ‘রুল নিশি’ জারি করেন। ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী কেন এই অবৈধ পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করা হবে না, তা সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

 

 

রিটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (DFP) মহাপরিচালক, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (DC), জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং পত্রিকাটির বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খায়রুল আলম রফিককে বিবাদী করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী ০৪ (চার) সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

 

আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাকিব মাবুদ। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (D.A.G) খান জিয়াউর রহমান এবং মোহাম্মদ আব্দুল করিমসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীগণ।

 

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, রুলের নোটিশটি প্রচলিত নিয়ম ও রেজিস্টার্ড ডাক-উভয় মাধ্যমেই বিবাদীদের ঠিকানায় দ্রুত পৌঁছাতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পত্রিকাটির ভবিষ্যৎ এবং মালিকানা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া এই আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এবিষয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, “দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের অবৈধ প্রকাশনা এবং প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে আমি মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছি। মূলত ২০২২ সালে আমি এবং আমার বর্ত মান প্রতিষ্ঠানের প্রধান সম্পাদক লায়ন মোঃ মির্জা সোবেদ আলী উক্ত পত্রিকার ডেকোরেশন ও আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য খায়রুল আলম রফিককে মোটা অংকের টাকা প্রদান করি। এরপর আমাকে সহ-সম্পাদক এবং মির্জা সোবেদ আলীকে ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

 

পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি যে, পত্রিকাটি মূলত ময়মনসিংহের একটি আঞ্চলিক প্রকাশনা পত্রিকা এবং খায়রুল আলম রফিক এর প্রকৃত মালিক নন। বিষয়টি জানার পর আমরা আমাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আমাদের সম্মানহানি করেন।

 

প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আমি আইনের আশ্রয় গ্রহণ করি। আমার দায়েরকৃত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর অবৈধ প্রকাশনা কেন বন্ধ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, আদালতের এই নির্দেশনার মাধ্যমে প্রতারক খাইরুল আলম রফিকের প্রকৃত মুখোশ উন্মোচিত হবে এবং অবৈধভাবে প্রকাশিত এই পত্রিকার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category