চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৬নং ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃষিজমি, সরকারি খাস জমি ও গাঙের পাড় থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণপুর গ্রামের কামরুল হাসান ও জসিমের নেতৃত্বে একটি চক্র ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রাক ব্যবহার করে গভীর রাতে মাটি উত্তোলন করছে। এতে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি নষ্ট হয়ে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু কৃষিজমিই নয়—সরকারি খাস জমি ও গাঙের পাড় থেকেও অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ভেকু জব্দ ও জরিমানা করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এই অবৈধ কার্যক্রম। অভিযানের পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পুনরায় রাতের আঁধারে মাটি কাটা শুরু হয়।
এদিকে, এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অবৈধ মাটি কাটার ঘটনায় একাধিক মামলা করা হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ সম্ভব না হওয়ায় পুনরায় অভিযান জোরদার করা হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।