স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা:আরমান খান অপু।
চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদী কায়দায় দখল, ভাঙচুর, অর্থ আত্মসাৎ এবং বহিরাগতদের দিয়ে বেআইনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ড। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টি খুলে দেওয়ার জন্য ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ‘দি ফার্স্ট ক্যাপিটাল এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড এগ্রিকালচার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’-এর চেয়ারম্যান মোহাঃ আলিম উদ্দীন লষ্কর।
সংবাদ সম্মেলনে মূল লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সাবেক সংসদ সদস্য সোলাইমান হক জোয়ার্দার ছেলুন ও তার ভাই রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দার টোটন প্রভাব খাটিয়ে পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর মূল ট্রাস্টিদের বাদ দিয়ে ২০১৫ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে ‘ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ট্রাস্ট’ নামে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও পারিবারিক সদস্যদের নিয়ে দ্বিতীয় একটি ভুয়া ট্রাস্ট গঠন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং দীর্ঘ ১২ বছর পর ২১ জুলাই ২০২৬ সালে মূল প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুদিন পর, ২৩ জুলাই ২০২৬ সালে ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দার শান্তর নেতৃত্বে শত শত বহিরাগত ক্যাম্পাসে হামলা ও রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারা চেয়ারম্যানের কক্ষ দখল, ফাইনান্স ডাইরেক্টরের রুম ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
পরবর্তীতে বেআইনিভাবে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া অনুমোদন ছাড়া প্রায় দেড় কোটি টাকার এফডিআর ভাঙিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয় শান্ত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাঃ আলিম উদ্দীন লষ্কর বলেন, “২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ইউজিসির নোটিশ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সুযোগ নেই। অথচ ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই এক সহকারী ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার বেআইনিভাবে এই কাজ করেছেন। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে সকল তথ্য জমা দিয়েছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা (পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া)-র অসহযোগিতা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে তা ঝুলে আছে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ জানান, বিগত দিনে এবং বর্তমানেও পেশিশক্তি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়টি পুনঃদখলের চেষ্টা চলছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে দ্রুত ক্যাম্পাস চালু করা এবং প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সহায়তা দাবি করেন তারা।