চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রংপুরে বিএটিবি কর্মচারীদের বিক্ষোভ-সমাবেশ
অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন ডাকার হুশিয়ারী।
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
১০-৮-২০২৬
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
চাকরি স্থায়করণের দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)-এর কর্মচারীরা। বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের আয়োজনে রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকায় বিএটিবি’র আঞ্চলিক অফিসের সামনে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে কর্মসুচি পালিত হয়। সোমবার দুপুর ১২টায় ঘন্টাব্যাপি মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে রংপুর, লালমনিরহাট ও পলাশবাড়ীতে বিএটিবি অফিসের কর্মচারীরা অংশ নেন।
কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে তারা গেল দুই মাসধরে মানব বন্ধন, বিক্ষোভ-সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করেছেন কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের দাবি পুরণে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো বিভিন্ন সময় কর্মচারীদের অন্যত্রে বদলিসহ চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দিচ্ছে। সারাদেশে বিএটিবি’র অধীন প্রায় ৪০০ কর্মচারী রয়েছেন। তন্মধ্যে ৩৫০জনই হচ্ছে ফিল্ডটেকনিশিয়ান (এফটি)। বাকি ৫০জন রয়েছে আইটি সাপোর্ট, অফিস পিয়ন ও ঝাড়ুদার পদে। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়ার কারনে তাদেরকে সবসময় চাকরি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাতে হয়। ঠিকাদারের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ হওয়ায় ঠিকাদার তাদের বেতনের ৯ থেকে ১০ শতাংশ টাকা কেটে নেন। যা বেতন পান তা দিয়ে দ্রব্যমুলের উর্ধ্বগতির বাজারে ঠিকমতো সংসার চালাতে পারছেন না। তাদের চাকরি স্থায়ী হলে ঠিকাদার বেতনের টাকা কর্তৃন করতে পারতেন না।
ফিল্ড টেকনিশিয়ান আবু বক্কর জানান, তিনি ২১ বছরধরে চাকরি করছেন কিন্তু আজো চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়নি। শুধু চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস পেয়েছেন। তিনি যে পদে চাকরিতে যোগদান করেছেন সে পদেই রয়েছে। কোন পদোন্নতি নেই। চাকরি স্থায়ীকরণ না হলে পদোন্নতি পাওয়া যায় না। ‘বিএটিবি একটি স্বনামধন্য ও বড় কোম্পানী কিন্তু এ কোম্পানীর কর্মচারী হয়ে আমাদেরকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম,’ তিনি বলেন।
ফিল্ড টেকনিশিয়ান মোহাম্মদ আলী জানান ‘আমি ২০ বছরধরে চাকরি করছি কিন্তু কোন উন্নতি নেই। এখন চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেকোন সময় চাকরিচ্যুত হতে পারি। বিএটিবি একটি মানবিক কোম্পানী কিন্তু নিজের কর্মচারীদের জন্য কোন মানবিকতা দেখায় না কোম্পানীটি।’
তিনি বলেন, তারা মাঠে নিরলস শ্রম দিয়ে চাষিদের তামাকচাষে উদ্বুদ্ধ করেন। কৃষকদের উন্নতমানের তামাকচাষে সর্বদা সহযোগিতা করেন। কোম্পানী উন্নতমানের তামাক পাচ্ছে এবং আর্থিকভাবে লঅভবান হচ্ছে। কিন্তু কোম্পানী ফিল্ড লেভের কর্মচারীদের প্রতি কোন সহানুভতি দেখাচ্ছে না। ‘চাকরি শেষে আমাদেরকে খালি হাতে বিদায় নিতে হবে। আমাদের শেষ জীবনটা অনেকটা অনিশ্চয়তার দিকে রয়েছে। আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হলে আমরা নিশ্চিত জীবনযাপন করতে পারতাম,’ তিনি বলেন।
অফিস পিয়ন আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,’ আমি বড় কোম্পানীর কর্মচারী কিন্তু জীবনযাপন করতে হচ্ছে নিম্নমানের। আমি শ্রম দেই কিন্তু পারিশ্রমিকের একটা অংম চলে যায় ঠিকাদারের পকেটে। বিএটিবি সরাসরি বেতন দিলেও আমার পরিবার সচ্ছলভাবে চলতে পারতো।’
বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও কোম্পানীর আইটি সাপোর্ট সৌরভ মিয়া জানান, ‘আমাদের চাকরি স্থায়করণ না হওয়ায় নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি এতেই কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতি ক্ষুদ্ধ। হয়দো আমাদেরকে অবৈধভাবে বদলি অথবা চাকরিচ্যুতির মতো ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।’ ‘নিয়ম অনুযায়ী ১৮০ দিন কোন কর্মচারী শ্রম দিলে তাকে স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে গণ্য করতে হবে কিন্তু বিএটিবি সেটা করছে না। আইনের কোন তোয়াক্কা করছে না। ঠিকাদারের অজুহাত দিয়ে আমাদেরকে অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে খাটিয়ে নিচ্ছে বছরের পর বছর,’ তিনি বলেন। ‘ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করতে হবে। যতদিন আমাদের দাবি পুরণ হবে না ততদিন আন্দোলন চিালিয়ে যাবো,’ তিনি বলেন।
সংগঠনের সভাপতি ও কোম্পানীর ফিল্ড টেবনিশিয়ান সাজু মিয়া জানান, ‘আমাদের চাকরি স্থায়করণ না হওয়ায় আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এখন আবার চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছি।’
তিনি বলেন, দ্রুত কোম্পানীর কর্তৃপক্ষ ফিল্ড লেভেল কর্মচারীদের দাবি পুরণে পদক্ষেপ না করলে তারা অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিবেন।
বিএটিবি রংপুর আঞ্চলিক ম্যানেজার (আরএম) দেওয়ান আমিনুল ইসলাম নাসিমের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান,’ কর্মচারীদের আন্দোলনের ব্যাপারে শুনেছি। আমি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারবো না। আমি এখন অফিসের কাজে ব্যস্ত আছি।’