নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী অটো, রিকশা ও ভ্যান চালক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা অনিয়ম–দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ আঙ্গুর মিয়া সংগঠনের বিভিন্ন সক্রিয় কর্মীর কাছে লোভনীয় ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত মোঃ আঙ্গুর মিয়া গাইবান্ধা জেলার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কাচারী বাজার এলাকার বাসিন্দা।
সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ,
চাঁদা আদায়ের এমন অভিযোগের সত্যতা জানতে এক সাংবাদিক মোঃ আঙ্গুর মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ করে হুমকিসূচক ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজে তিনি বলেন আমি বাংলাদেশের কাউকে পেলি*না, তোমার মতো সাংবাদিক কে চু*দি না বলে মন্তব্য করেন। ( ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত)
ঘটনাটি ঘটে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, রাত আনুমানিক ৮টা ৩৬ মিনিটে। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগে উল্লিখিত তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি : 01335963369
একই সংগঠনের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মোঃ নুর জামাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, মোঃ আঙ্গুর মিয়া আমার কাছে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে চাপের মুখে আমি ১ হাজার ৫০০ টাকা তাকে দিতে বাধ্য হই। তিনি আরও বিভিন্ন নেতাকর্মীর কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না দিলে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করবেন বলে ভয়ভীতি দেখান। এবং আমি সভাপতি কে বিষয় টা জানালে তিনি এই চাঁদার টাকা বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
তিনি আরও বলেন,
পরবর্তীতে আমি তাকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার সহযোগী মোঃ জামান মিয়াকে ফোন করলে সেখান থেকেও একইভাবে বলা হয়—৫ হাজার টাকা না দিলে কমিটি বাতিল করা হবে।”
এমন ঘটনায় সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, চাঁদার আতঙ্কে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ কর্মীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ আঙ্গুর মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।