সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
Headline :
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের শিক্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত: গ্রামের মেঠোপথ থেকে কৃষি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস ও সামাজিক দায়বদ্ধতা,,, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল। ‘সময়ের আলোকে’ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, আমরা ইউপি নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত আছি। আসলে আমরা তো নভেম্বরের জন্যই প্রস্তুত ছিলাম। সুতরাং আমাদের সবই রেডি আছে। কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোট। ভোটের ৪০ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। আব্দুর রহমানেল মাছউদের তথ্য অনুযায়ী ভোটের ৪০ দিন আগের হিসাব করলে ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা। নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরি/স্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার নিয়োজিত থাকবে। সেনাবাহিনী থাকবে না। কিন্তু প্রথম ধাপে যদি বেশি সহিংসতা দেখা যায় তা হলে পরের ধাপের নির্বাচনে সেনাবাহিনী বিবেচনা করতে পারি। তবে নরমাললি সেনাবাহিনী থাকবে না। ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। গত ১৩ অক্টোবর ইসির ১৩তম কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষ/দের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। ইউপির জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ : স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪২৫টি। উল্লেখিত কেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬টি ভোটকেন্দ্র, পৌরস/ভা নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ২০২টি ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর জন্য আলাদা করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের প্রয়োজন হয়নি ইসির। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন। আচরণ বিধি প্রকাশ : ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ সব স্তরের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিলবোর্ডের সীমা নির্ধারণ, ভোটারদের এনআইডি-মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা, ধ/র্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, ভোটারকে প্রভাবিত করতে ব/লপ্রয়োগ ও অর্থ ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞা, প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ না নেওয়া, নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি না করা, সাদা-কালো প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করাসহ একগুচ্ছ নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ইসি। এসব নিয়ম না মানলে কিংবা আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থীকে জরিমানা ও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছে ইসি। এর বাইরেও নির্বাচনিসামগ্রী কেনাকাটাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। এদিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর দলীয় প্রতীকবিহীন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউপি নির্বাচন। তাই ইউপি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী অংশ নিতে পারবে। যদিও দল থেকে যেকোনো একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলগুলো। এরপরও নির্বাচনে জিততে হলে দল সমর্থিত প্রার্থীকে নিজ দল এবং বিরোধী দলের একাধিক প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য ইউপি নির্বাচনে পেশিশক্তির আশ/ঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স/হিং/স/তা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে কমিশন। তাই এবার নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সাবেক কমিশন, কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে ইসি। এর ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করতে যাচ্ছে তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে অনেক মানুষ মা/রা যায়। অনেক স/হিং/স/তা হয়। এবার যাতে সে পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় বা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা কোনো হাঙ্গামা না করে এ বিষয়ে আগামী মাসে আমরা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসব এবং সবার সহযোগিতা কামনা করব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিটিং হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৪৯৭টি। এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩১টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ ও ৪৫৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগই নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদও হয়ে পড়ে জনপ্রতিনিধিহীন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই চলছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। ত্রিশালে যুব দিবসে যুব সংগঠক এন,এম জহিরুল ইসলাম কে সম্মাননা স্মারক প্রদান যাদুকাটা নদীর বালুমহাল বন্ধে করা রিট পিটিশন মামলা প্রত্যাখান করেছেন হাইকোর্ট। ধর্মপাশায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। ১৬শ’ ৪৭জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মেরিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত সন্তানকে সুশিক্ষিত করতে অভিভাবকদের ভূমিকা অপরিসীম- সফিকুর রহমান সফিক সাতক্ষীরার তালায় ৫ নভেম্বর শান্তি ও আরোগ্যদায়ী সভা দেশে-বিদেশে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করছে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা সমাজ কল্যাণ পরিষদ।

গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত মূল হোতা বরখাস্তকৃত

Update : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত মূল হোতা বরখাস্তকৃত

ব্যাংক কর্মকর্তা মুরাদ এখন কুড়িগ্রামে, পলাতক সহযোগী
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার
০১৭১৭৭৭৬৯৭২

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার অর্ধশতাধিক সহজ-সরল গ্রাহকের প্রায় ১ কোটি টাকা কৌশলে আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও বর্তমানে কুড়িগ্রাম সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) শরীফ হাসান মুরাদের বিরুদ্ধে। এ জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনায় তার প্রধান সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে ব্যাংকটির পলাতক নৈশপ্রহরী ফিরোজ মিয়ার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে সম্প্রতি সাময়িক বরখাস্ত হয়ে কুড়িগ্রাম সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম কার্যালয়ে বদলি হন শরীফ হাসান মুরাদ। তিনি বদলি হওয়ার পরপরই তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নৈশপ্রহরী ফিরোজ মিয়া বিপাকে পড়েন এবং গত ২০ জুলাই থেকে আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায় বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৪৯১) দায়ের করেছেন।

দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ততাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় ব্যাংক পাড়া ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

যেভাবে চলতো কোটি টাকার প্রতারণা
স্থানীয়দের তথ্যমতে, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসমাইল গ্রামের কছির উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া গত ১৫-২০ বছর ধরে ওই ব্যাংকে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পদে নৈশপ্রহরী হলেও তৎকালীন অসাধু শাখা ব্যবস্থাপক শরীফ হাসান মুরাদের সরাসরি প্রশ্রয়ে ও ছত্রছায়ায় তিনি ব্যাংকের নিয়মিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণের ফাইল প্রস্তুত করা এমনকি টাকা জমা ও উত্তোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করতেন ফিরোজ। দীর্ঘদিন এসব কাজ করায় সহজ-সরল গ্রাহকদের কাছে তিনি ব্যাংকের অন্যতম ‘আস্থার প্রতীক’ হয়ে ওঠেন।

ভুক্তভোগী ছাদিকুল মিয়া জানান, “ঋণের বিষয়ে ব্যাংকের ভেতরে মুরাদের নির্দেশে আগে ফিরোজের সঙ্গেই কথা বলতে হতো। ফিরোজ যাদের সুপারিশ করত, মুরাদ তাদের ঋণ দ্রুত পাস করে দিতেন। ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও কৃষকদের ফাঁকা চেক, এনআইডি, অলিখিত স্ট্যাম্প ও ছবি জমা রাখা হতো। পরে বড় অঙ্কের ঋণ পাস করিয়ে গ্রাহকদের হাতে সামান্য টাকা দেওয়া হতো। কয়েক বছর পর ঋণের নোটিশ পেয়ে গ্রাহকরা জানতে পারতেন আসল ঋণের পরিমাণ, যা দেখে অনেকে বাধ্য হয়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে ব্যাংকের দায় শোধ করেছেন।”

অন্য এক ভুক্তভোগী তহুরা বেগম জানান, ডিপিএসের টাকা তুলতে গেলে ফিরোজ চেকে স্বাক্ষর নিয়ে কয়েকদিন পর আসতে বলেন। পরে ব্যাংকে গিয়ে দেখেন অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাটি চেপে যাওয়ার তাগিদ দেন। এছাড়া আরজিনা বেগম নামে এক শিক্ষিকার ২৮ হাজার টাকা এবং রবিউল ইসলাম নামে এক শিক্ষকের ৭০ হাজার টাকা জমা না দিয়ে ভুয়া রশিদ দেওয়া হয়। এ সময় তাদের মোবাইল নম্বরে আসা ব্যাংকের এসএমএস সার্ভিসও কৌশলে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মশিউর রহমান ও রাসেল সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক শরীফ হাসান মুরাদের প্রত্যক্ষ মদদ ও সম্পৃক্ততা ছাড়া একজন নৈশপ্রহরীর পক্ষে কোটি টাকার এত বড় দুর্নীতি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মুরাদ ও ফিরোজ যৌথভাবে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই বরখাস্তকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা মুরাদের মূল জালিয়াতি বেরিয়ে আসবে।”

স্বীকারোক্তি ও স্বজনদের হুমকি
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পলাতক ফিরোজের বাবা কছির উদ্দিন ছেলের প্রতারণার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গাড়াগামের তহুরা বেগমসহ কয়েকজনের ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বর্তমান ব্যাংক ম্যানেজার পংকজ কান্তি রায়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে এত টাকা নিয়ে ছেলে কোথায় আছে তা তিনি জানেন না।

অন্যদিকে, তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অভিযুক্ত ফিরোজের দুলাভাই শফিকুল ইসলাম নিজেদের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কর্মী পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

সাংবাদিকদের সাথে বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা মুরাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ
ঘটনার সত্যতা জানতে কুড়িগ্রাম সোনালী ব্যাংকে গিয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) শরীফ হাসান মুরাদের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের উপর চরম ক্ষিপ্ত হন এবং মেজাজ দেখিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম)-এর সাথে কথা বলার তাগিদ দেন।

পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আতাহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কুড়িগ্রামে নতুন এসেছি, তাই এ বিষয়টি আমার জানা নেই। শরীফ হাসান মুরাদ এখানে ৬ মাসের কম সময় ধরে কর্মরত আছেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত বিষয় এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এ বিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক পংকজ কান্তি রায় জানান, গত ২০ জুলাই থেকে ফিরোজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত। বর্তমানে পুরো ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর মিয়া জানান, নৈশপ্রহরীর নিখোঁজ থাকার বিষয়ে ব্যাংকের বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।


More News Of This Category

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল। ‘সময়ের আলোকে’ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, আমরা ইউপি নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত আছি। আসলে আমরা তো নভেম্বরের জন্যই প্রস্তুত ছিলাম। সুতরাং আমাদের সবই রেডি আছে। কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোট। ভোটের ৪০ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। আব্দুর রহমানেল মাছউদের তথ্য অনুযায়ী ভোটের ৪০ দিন আগের হিসাব করলে ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা। নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরি/স্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার নিয়োজিত থাকবে। সেনাবাহিনী থাকবে না। কিন্তু প্রথম ধাপে যদি বেশি সহিংসতা দেখা যায় তা হলে পরের ধাপের নির্বাচনে সেনাবাহিনী বিবেচনা করতে পারি। তবে নরমাললি সেনাবাহিনী থাকবে না। ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। গত ১৩ অক্টোবর ইসির ১৩তম কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষ/দের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। ইউপির জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ : স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪২৫টি। উল্লেখিত কেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬টি ভোটকেন্দ্র, পৌরস/ভা নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ২০২টি ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর জন্য আলাদা করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের প্রয়োজন হয়নি ইসির। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন। আচরণ বিধি প্রকাশ : ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ সব স্তরের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিলবোর্ডের সীমা নির্ধারণ, ভোটারদের এনআইডি-মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা, ধ/র্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, ভোটারকে প্রভাবিত করতে ব/লপ্রয়োগ ও অর্থ ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞা, প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ না নেওয়া, নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি না করা, সাদা-কালো প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করাসহ একগুচ্ছ নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ইসি। এসব নিয়ম না মানলে কিংবা আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থীকে জরিমানা ও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছে ইসি। এর বাইরেও নির্বাচনিসামগ্রী কেনাকাটাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। এদিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর দলীয় প্রতীকবিহীন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউপি নির্বাচন। তাই ইউপি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী অংশ নিতে পারবে। যদিও দল থেকে যেকোনো একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলগুলো। এরপরও নির্বাচনে জিততে হলে দল সমর্থিত প্রার্থীকে নিজ দল এবং বিরোধী দলের একাধিক প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য ইউপি নির্বাচনে পেশিশক্তির আশ/ঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স/হিং/স/তা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে কমিশন। তাই এবার নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সাবেক কমিশন, কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে ইসি। এর ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করতে যাচ্ছে তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে অনেক মানুষ মা/রা যায়। অনেক স/হিং/স/তা হয়। এবার যাতে সে পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় বা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা কোনো হাঙ্গামা না করে এ বিষয়ে আগামী মাসে আমরা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসব এবং সবার সহযোগিতা কামনা করব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিটিং হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৪৯৭টি। এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩১টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ ও ৪৫৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগই নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদও হয়ে পড়ে জনপ্রতিনিধিহীন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই চলছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল। ‘সময়ের আলোকে’ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, আমরা ইউপি নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুত আছি। আসলে আমরা তো নভেম্বরের জন্যই প্রস্তুত ছিলাম। সুতরাং আমাদের সবই রেডি আছে। কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোট। ভোটের ৪০ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। আব্দুর রহমানেল মাছউদের তথ্য অনুযায়ী ভোটের ৪০ দিন আগের হিসাব করলে ১২ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা। নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরি/স্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার নিয়োজিত থাকবে। সেনাবাহিনী থাকবে না। কিন্তু প্রথম ধাপে যদি বেশি সহিংসতা দেখা যায় তা হলে পরের ধাপের নির্বাচনে সেনাবাহিনী বিবেচনা করতে পারি। তবে নরমাললি সেনাবাহিনী থাকবে না। ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। গত ১৩ অক্টোবর ইসির ১৩তম কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষ/দের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। ইউপির জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ : স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪২৫টি। উল্লেখিত কেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬টি ভোটকেন্দ্র, পৌরস/ভা নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ২০২টি ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন অন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর জন্য আলাদা করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের প্রয়োজন হয়নি ইসির। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন। আচরণ বিধি প্রকাশ : ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ সব স্তরের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিলবোর্ডের সীমা নির্ধারণ, ভোটারদের এনআইডি-মোবাইল নম্বর সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা, ধ/র্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা, ভোটারকে প্রভাবিত করতে ব/লপ্রয়োগ ও অর্থ ব্যয়ে নিষেধাজ্ঞা, প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ না নেওয়া, নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতি না করা, সাদা-কালো প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করাসহ একগুচ্ছ নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ইসি। এসব নিয়ম না মানলে কিংবা আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থীকে জরিমানা ও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছে ইসি। এর বাইরেও নির্বাচনিসামগ্রী কেনাকাটাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। এদিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর দলীয় প্রতীকবিহীন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউপি নির্বাচন। তাই ইউপি নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী অংশ নিতে পারবে। যদিও দল থেকে যেকোনো একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দলগুলো। এরপরও নির্বাচনে জিততে হলে দল সমর্থিত প্রার্থীকে নিজ দল এবং বিরোধী দলের একাধিক প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য ইউপি নির্বাচনে পেশিশক্তির আশ/ঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স/হিং/স/তা নিয়ন্ত্রণে রাখাই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে কমিশন। তাই এবার নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সাবেক কমিশন, কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে ইসি। এর ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করতে যাচ্ছে তারা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সময়ের আলোকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে অনেক মানুষ মা/রা যায়। অনেক স/হিং/স/তা হয়। এবার যাতে সে পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় বা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা কোনো হাঙ্গামা না করে এ বিষয়ে আগামী মাসে আমরা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসব এবং সবার সহযোগিতা কামনা করব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিটিং হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫৪৯৭টি। এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩১টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ ও ৪৫৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগই নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদও হয়ে পড়ে জনপ্রতিনিধিহীন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই চলছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।