গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতাল পরিদর্শনের পর ২ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
২ আগস্ট, ২০২৬
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনের সময় সরকারি ওষুধ ও জলাতঙ্কের প্রতিষেধক হাসপাতালে মজুদ থাকা সত্ত্বেও রোগীদের না দেওয়ার অপরাধে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন তিনি।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন—উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী এবং মেডিকেল অফিসার ডা. জিল্লুর রহমান।
রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই কুকুরের কামড়ে আহত এক রোগীর সাথে কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওই রোগীর কাছে জানতে চান, তিনি জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন কোথা থেকে পেয়েছেন? জবাবে ভুক্তভোগী রোগী ও তার স্বজনরা জানান, ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে এই ভ্যাকসিন কিনে আনতে হয়েছে তাদের।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, সকালে কুকুর কামড়ানোর পর ভুক্তভোগী নারী প্রতিষেধক নেওয়ার জন্য হাসপাতালে আসেন। তবে হাসপাতাল থেকে দায়িত্বরতরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন নেই, বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে। বাধ্য হয়ে তারা বাইরে থেকেই ভ্যাকসিন কিনে আনেন। কাকতালীয়ভাবে ঠিক সে মুহূর্তেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হন।
ঘটনা জানার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান, “সরকারি প্রতিষেধক ও অ্যান্টিবায়োটিক হাসপাতালে মজুদ থাকার পরও সাধারণ রোগীদের তা কেন সরবরাহ করা হচ্ছে না?”
রোগীদের সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত করার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত ওই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের সঠিক চিকিৎসা সেবা ও সরকারি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রশাসনকে কড়া হুশিয়ারি দেন।