গাইবান্ধায় একই রাতে ৪ দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি
ভেন্টিলেটর ও চালার টিন কেটে স্বর্ণ-রুপা, নগদ টাকা ও পণ্য লুট
মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা পৌরসভার পূর্বপাড়া এলাকায় একই রাতে চারটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল ভেন্টিলেটর, ইট ও দোকানের চালার টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণ-রুপা, নগদ টাকা, মোবাইল রিচার্জ কার্ড ও সিগারেটসহ প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান স্বর্ণ ব্যবসায়ী মোঃ শাহিন মিয়া। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে দোকান খুলতে এসে তিনি দেখতে পান, দোকানের পেছনের ভেন্টিলেটর ও নিচের চালা খুলে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করেছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ‘জিম জুয়েলার্স’ থেকে ১ ভরি ৪ আনা ওজনের স্বর্ণ, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, এবং প্রায় ২৫ ভরি রুপার তৈরি ব্রেসলেট, চুড়ি, আংটি ও পায়ের নুপুরসহ আনুমানিক ১ লাখ ১০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
শুধু ওই স্বর্ণের দোকানেই নয়, একই রাতে আশপাশের আরও তিনটি দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটে।
‘সরকার ভ্যারাইটিজ’ দোকানের পেছনের ভেন্টিলেটর ও ইট খুলে চোরেরা নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ২৫ হাজার টাকার মোবাইল রিচার্জ কার্ড নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন দোকানের মালিক আব্দুর রহিম সরকার।
এ ছাড়া ‘অর্ণব কনফেকশনারী’তে চালার টিন তুলে প্রবেশ করে চোরেরা নগদ ৫ হাজার টাকা ও প্রায় ৫ হাজার টাকার সিগারেট চুরি করে।
অন্যদিকে ‘আরিফ কনফেকশনারী’র পেছনের চালা তুলে ভেতরে ঢুকে চোরেরা ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা ৭ হাজার টাকা এবং প্রায় ৯ হাজার টাকার সিগারেট নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা চোরদের শনাক্ত এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে ব্যর্থ হয়ে গাইবান্ধা থানায় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরের দলের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়।
একই রাতে পাশাপাশি চারটি দোকানে চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।