কুড়িগ্রামে জীর্ণশীর্ণ ঘরে থাকা তিন বোনের পাশে দাঁড়াল প্রশাসন
পেয়েছেন শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
স্বামী-সন্তানহীন তিন বোন। বয়সের ভার, অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধিতার কারণে অন্যের সহায়তা ছাড়া তাদের চলাফেরাও কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ একটি ঘরে নানা সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবন কাটছিল তাদের। খাবার ও চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও ছিল কঠিন। গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে তাদের অসহায়ত্ব জানার পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন।
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দেবীপুর পণ্ডিতপাড়া গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের তিন মেয়ে মন্তনী বেগম (৭৯), বোছ বেগম (৭৫) ও তুলি বেগম ৭০)। তিন বোনের কেউই বিবাহিত নন। তাদের মধ্যে মন্তনী বেগমের কোমরের হাড় ভাঙা, বোছ বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তুলি বেগম বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিন বোন একে অপরকে অবলম্বন করে জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের নিয়মিত কোনো আয় নেই। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিজেরা কাজ করে উপার্জন করতেও পারেন না। ফলে অন্যের সহায়তা ও স্থানীয়দের দেওয়া সামান্য খাবারের ওপর অনেকটা নির্ভর করেই তাদের দিন কাটে।
জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসের কারণে বর্ষা ও দুর্যোগের সময় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন বোনের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়া হয়। এ সময় তাদের শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রীজীব কুন্ডু তিন বোনের হাতে সহায়তা তুলে দেন। এসময় সংবাদকর্মী মিজানুর এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সহায়তা পেয়ে মন্তনী বেগম বলেন,’ হামরা খুব খুশি হইছোং। হামার ঘরটা ঠিক করি দাও। ঝরি আইসলে পানি পড়ে। এ্যাকনা ঘরোত হামরাগুলা থাকি। হামার বিছনাটাও ভাল নোয়া। হামাক ওষুধ কিনি দাও। হামার টাকা নাই ওষুধ ক্যাং করি কিনি।’
গণমাধ্যম কর্মী মিজানুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এককালীন সহায়তার পাশাপাশি তিন বোনের জন্য নিয়মিত খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের বসবাসের জন্য নিরাপদ ও টেকসই একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হলে জীবনের শেষ সময়ে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
’অসহায় তিন বোনের জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসা ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি,’ তিনি বলেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রীজীব কুন্ডু বলেন,’ তিন বোনই খুবই অসহায়। খুবই কষ্ট করে তাদেরকে বাঁচতে হচ্ছে। তারা প্রাথমিক সহায়তা পেয়ে খুশি হয়েছেন। তারা আরো কিছু জিনিসের দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, তিন বোনের জন্য প্রাথমিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য ঘরটি মেরামতসহ তাদের নিয়মিত সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।