আদিতমারীতে ৩৮ লাখ টাকার খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
শ্রমিকের তালিকায় নেতার মোবাইল নম্বর, ভেকু দিয়ে খননের অভিযোগ
উপসম্পাদক দৈনিক বাংলার সংবাদ :
লালমনিরহাটের
আদিতমারী উপজেলায় অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দরিদ্র শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের জন্য নেওয়া প্রকল্পে শ্রমিকের পরিবর্তে এক্সকাভেটর (ভেকু) ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের শ্রমিক তালিকায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও শিক্ষকদের মোবাইল নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের ঝড়িরপাড় থেকে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ঢুসেরডেরা পুল পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খননের জন্য সরকার ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুই ইউনিয়নে ৪৫ জন করে মোট ৯০ জন শ্রমিকের কায়িক শ্রমে কাজ সম্পন্ন করার কথা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু ব্যবহার করে খাল খনন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও খালের তলদেশ যথাযথভাবে খনন না করে শুধু পাড় উঁচু করার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের মাস্টাররোলে তালিকাভুক্ত কয়েকজন শ্রমিকের নামের পাশে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও অন্যান্য ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃত শ্রমিকদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কয়েকজন শ্রমিকের অভিযোগ, প্রকল্পে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য নেওয়া হয়েছে। এমনকি কারও কারও কাছ থেকে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, তারা কাজের বিপরীতে প্রাপ্য অর্থ যথাযথভাবে পেয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
শ্রমিক তালিকায় নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহারের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া রিপন দাবি করেন, কে বা কারা তার মোবাইল নম্বর সেখানে ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
অভিযোগের বিষয়ে আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. এনামুল হক বলেন, নিয়ম মেনেই প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কাজের অগ্রগতি দেখে বিল দেওয়া হচ্ছে। কোনো শ্রমিক প্রাপ্য টাকা না পেয়ে থাকলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত এ প্রকল্পে প্রকৃত শ্রমিকরা কাজের সুযোগ ও পারিশ্রমিক পাচ্ছেন কি না, মাস্টাররোলে প্রকৃত শ্রমিকদের তথ্য রয়েছে কি না এবং বরাদ্দের ৩৮ লাখ টাকা যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।