শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
Headline :
নাগেশ্বরীতে এক যুগ ধরে এভাবে ভেঙ্গে পড়ে আছে ব্রিজ, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী বিশেষ অভিযানে ঢাকা জেলার ডিবি (দক্ষিণ) কর্তৃক ৫০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০ গ্রাম হেরোইন‘সহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার- অদম্য মেধাবী ড. চয়ন গোস্বামী মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (ব্যাচ-১৯৯৯)৷৷৷ ,,৷ অর্থসংকট, খাদ্য ও আবাসন সমস্যায় জর্জরিত আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম, সহযোগিতার আহ্বান পঞ্চগড়ে বালুবোঝাই ট্রাকচাপায় নারীর মৃত্যু রংপুর বিভাগে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় রেঞ্জ ডিআইজির কৃতজ্ঞতা মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে দুই কিশোরকে মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ সীমান্ত প্রতিনিধি জুসা সিকদার,টেকনাফ উকিয়া,কক্সবাজার কালীগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা ও এসআইসহ নিহত ২, আহত ২ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দিয়ে শুভ উদ্বোধন হলো বুড্ডা মৃধাবাড়ী যুব কল্যাণ সংগঠন।

অর্থসংকট, খাদ্য ও আবাসন সমস্যায় জর্জরিত আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম, সহযোগিতার আহ্বান

Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

অর্থসংকট, খাদ্য ও আবাসন সমস্যায় জর্জরিত আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম, সহযোগিতার আহ্বান
‎
‎এ আর আল মামুন ঃ স্টাফ রিপোর্টার
‎
‎ঢাকা: অসহায়, বয়স্ক ও সমাজে অবহেলিত মানুষের আশ্রয়স্থল আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম বর্তমানে চরম অর্থসংকট, খাদ্য ও ওষুধের অভাবসহ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। আবাসন সংকটের পাশাপাশি বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিতদের মৃত্যুর পর দাফনের জন্য নিজস্ব কবরস্থান না থাকায়ও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
‎ঢাকা জেলার উত্তরখান থানাধীন কুদুমখোলা কড়াইহাটি গ্রামে অবস্থিত আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রমটি ২০১০ সালে মাত্র ১০ জন বৃদ্ধকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা সেলিনা শেলী প্রথমদিকে নিজের বেতনের টাকা ব্যয় করে এর কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে বৃদ্ধাশ্রমটি পরিচালনা করেন।
‎ধীরে ধীরে কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী ও দানশীল ব্যক্তির সহযোগিতায় ১৩ দশমিক ৬৫ কাঠা জমি ক্রয় করে সেখানে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি অসহায় ও অবহেলিত মানুষের আশ্রয়, সেবা ও পরিচর্যায় কাজ করে আসছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১৫০ জন বৃদ্ধসহ সমাজের বিভিন্নভাবে অবহেলিত মানুষকে সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
‎তবে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় থাকার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিনের খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
‎প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা সেলিনা শেলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অর্থের অভাবে বর্তমানে বৃদ্ধাশ্রমটি পরিচালনা করতে তাঁকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে অসহায় মানুষগুলোর সেবায় প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, বৃদ্ধাশ্রমে কেউ মারা গেলে তাঁর মরদেহ দাফন করার জন্যও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। গণকবরস্থানে দাফনের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় এবং অন্য কবরস্থানেও দাফনের সুযোগ সব সময় পাওয়া যায় না। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি নিজস্ব কবরস্থান অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
‎এদিকে, বৃদ্ধাশ্রমটির আশপাশের এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৈয়দা সেলিনা শেলী দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন। তাঁদের মতে, অসহায় ও বয়স্ক মানুষের সেবায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে জন্য সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
‎সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখা যায়, সেখানে আবাসন সংকট রয়েছে এবং আশ্রিতদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিশ্চিত করতে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
‎এ অবস্থায় আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক কাজে আগ্রহী মানুষের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রমটির খাদ্য, ওষুধ, আবাসন ও দাফনের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
‎মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রত্যেকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এলে আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় মানুষগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে। তাঁদের জীবনের শেষ সময়টুকু যেন অবহেলা ও অনিশ্চয়তার পরিবর্তে নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মর্যাদার সঙ্গে কাটে—এটাই প্রত্যাশা।
‎
‎


More News Of This Category