শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
Headline :
নাগেশ্বরীতে এক যুগ ধরে এভাবে ভেঙ্গে পড়ে আছে ব্রিজ, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী বিশেষ অভিযানে ঢাকা জেলার ডিবি (দক্ষিণ) কর্তৃক ৫০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২০ গ্রাম হেরোইন‘সহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার- অদম্য মেধাবী ড. চয়ন গোস্বামী মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (ব্যাচ-১৯৯৯)৷৷৷ ,,৷ অর্থসংকট, খাদ্য ও আবাসন সমস্যায় জর্জরিত আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম, সহযোগিতার আহ্বান পঞ্চগড়ে বালুবোঝাই ট্রাকচাপায় নারীর মৃত্যু রংপুর বিভাগে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় রেঞ্জ ডিআইজির কৃতজ্ঞতা মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে দুই কিশোরকে মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ সীমান্ত প্রতিনিধি জুসা সিকদার,টেকনাফ উকিয়া,কক্সবাজার কালীগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা ও এসআইসহ নিহত ২, আহত ২ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দিয়ে শুভ উদ্বোধন হলো বুড্ডা মৃধাবাড়ী যুব কল্যাণ সংগঠন।

অদম্য মেধাবী ড. চয়ন গোস্বামী মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (ব্যাচ-১৯৯৯)৷৷৷ ,,৷

Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

অদম্য মেধাবী
ড. চয়ন গোস্বামী
মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (ব্যাচ-১৯৯৯)৷৷৷ ,,৷
মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ সিনিয়র স্টাফ রিপোটার
গবেষণা ও সাফল্যের এক উজ্জ্বল নাম ড. চয়ন গোস্বামী
অধ্যাপক, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

মোহনগঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে শেকড়ের বন্ধন অটুট রেখে শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষকতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ড. চয়ন গোস্বামী। শৈশবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে জাপানের উচ্চতর গবেষণাগার, আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জন, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন—তাঁর দীর্ঘ পথচলা মেধা, অধ্যবসায় ও জ্ঞানসাধনার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।

ড. চয়ন গোস্বামীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা মোহনগঞ্জের বার্তারগাতী, মার্কাস রোড এলাকায়। তাঁর পিতা স্বর্গীয় মিহির গোস্বামী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং মোহনগঞ্জের পরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মায়া বুক ডিপোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মা অঞ্জলী গোস্বামী একজন গৃহিণী।

স্ত্রী: ড. রাখী চক্রবর্তী
পদবী: সহযোগী প্রফেসর
কর্মস্থল: ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
সন্তান: এক মেয়ে ও এক ছেলে।

ভাই: রুপন গোস্বামী, ফার্স্ট এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মধুমতি ব্যাংক পিএলসি
তার স্ত্রী: পম্পা মজুমদার, সহকারী প্রফেসর, বাংলা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি ভর্তি হন মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগসহ স্টার মার্কস অর্জন করেন। চারটি বিষয়ে লেটার মার্কস লাভ তাঁর মেধার প্রাথমিক স্বাক্ষর বহন করে।
এরপর ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০০১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগসহ স্টার মার্কস অর্জন করেন। স্কুল ও কলেজের এই সাফল্য তাঁকে উচ্চশিক্ষার পথে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
উচ্চশিক্ষায় মেধার স্বাক্ষর

ড. চয়ন গোস্বামী উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কৃষি অনুষদ থেকে ২০০৭ সালে বি.এসসি.এজি. (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং প্রথম শ্রেণিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করেন।
এরপর প্রাণরসায়নে উচ্চতর জ্ঞান ও গবেষণার লক্ষ্যে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি লাভ করেন প্রফেসর করিম মেমোরিয়াল ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড। এই অর্জন তাঁর মেধা ও গবেষণামুখী মননের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
শিক্ষকতা ও গবেষণার নতুন অধ্যায়
২০০৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবন শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তিনি নিজেও উচ্চতর গবেষণায় মনোনিবেশ করেন।
২০১২ সালে জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ মনবুকাগাকুশো বা MEXT বৃত্তি নিয়ে জাপানের সাইতামা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন। রেগুলেটরি বায়োলজি বিষয়ে গবেষণা করে ২০১৫ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পিএইচডি অর্জনের পর তাঁর গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানে পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত ছিলেন—জিচি মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, কানসাই ইলেকট্রিক পাওয়ার মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং কোবে ইউনিভার্সিটি। এসব প্রতিষ্ঠানে তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল ইন্টিগ্রেটিভ ফিজিওলজি।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান
জাপানে গবেষণাকালে ড. চয়ন গোস্বামী ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাময় একটি শর্করা—এলুলোজের কার্যকারিতা ও কার্যপ্রক্রিয়া অনুসন্ধানবিষয়ক গবেষণায় সহকারী গবেষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ওই গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিজ্ঞান সাময়িকী Nature Communications-এ প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়া অন্ত্রে পরিপাকের ফলে উৎপন্ন শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে বিউটারিক অ্যাসিড, কীভাবে ভেগাস নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কের খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে পরিচালিত গবেষণাও প্রকাশিত হয়েছে Journal of Nutritional Biochemistry-এ।
এই গবেষণাগুলো বিপাকীয় স্বাস্থ্য, খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ এবং ডায়াবেটিস-সম্পর্কিত জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে তাঁর সম্পৃক্ততার পরিচয় বহন করে।
আন্তর্জাতিক বৃত্তি ও প্রশিক্ষণ
গবেষণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগও কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
২০২৩ সালে ভারত সরকারের Indian Science and Research Fellowship (ISRF) অর্জন করে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর ICAR-NIANP প্রতিষ্ঠানে পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপে অংশ নেন।
এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের কৃষিবিষয়ক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান Wageningen University & Research-এর আওতাধীন WCDI সেন্টার আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। নেদারল্যান্ডস সরকারের NUFFIC Orange Knowledge Programme (OKP) ফেলোশিপের আওতায় ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসে এবং ২০২৪ সালে ইথিওপিয়ায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান।
এসব আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করার পাশাপাশি কৃষি, পুষ্টি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
গবেষণাপত্র প্রকাশ ও শিক্ষার্থী তত্ত্বাবধান
গবেষণায় ধারাবাহিকতার অন্যতম পরিচায়ক হলো তাঁর প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের সংখ্যা। এ পর্যন্ত তাঁর ৪৯টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি ২০ জন এমএস শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
একজন শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে তাঁর ভূমিকা শুধু নিজস্ব গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নতুন গবেষক তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি অবদান রেখে চলেছেন।
গবেষণার বর্তমান ক্ষেত্র ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ড. চয়ন গোস্বামীর বর্তমান গবেষণার অন্যতম প্রধান আগ্রহ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার নেতিবাচক প্রভাব কমাতে প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন সক্রিয় উপাদানের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রতিকূল পরিবেশেও উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও উৎপাদন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ামক ও প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছেন।

আলোয় আলোকিত হোক চারপাশ, অনেক অনেক শুভকামনা দাদা..


More News Of This Category