অতীতের স্থবিরতা পেরিয়ে জাবরহাটে দৃশ্যমান উন্নয়ন: সফল চেয়ারম্যান জিয়ার বিকল্প দেখছেন না জনগণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং জাবরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বিগত মেয়াদের জনপ্রতিনিধিদের আমলের স্থবিরতা এবং নানা অনিয়মের বেড়াজাল ভেঙে বর্তমান চেয়ারম্যান মো: জিয়াউর রহমান (জিয়া)-এর হাত ধরে জাবরহাটে লেগেছে আধুনিক ও টেকসই উন্নয়নের ছোঁয়া। রাস্তাঘাট সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক সেবা প্রাপ্তি সহজ করার মাধ্যমে তিনি বিগত যেকোনো চেয়ারম্যানের তুলনায় সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্বে জাবরহাটের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নাগরিক সেবা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ছিল। বিগত চেয়ারম্যানদের সময়ে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা বন্টনে পক্ষপাতিত্ব, খাস জমি বা খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে অস্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ব্যাপক ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে মো: জিয়াউর রহমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততা ফিরিয়ে আনেন।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানের ভূমিকা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তুলনাহীন। তার মেয়াদে জাবরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রধান প্রধান কাঁচা রাস্তা পাকা করা হয়েছে এবং বর্ষার জলাবদ্ধতা দূর করতে পরিকল্পিতভাবে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষকরা এখন খুব সহজেই তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে সরবরাহ করতে পারছেন, যা বিগত বছরগুলোতে প্রায় অসম্ভব ছিল। এছাড়া ইউনিয়নকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করাসহ সামাজিক সুরক্ষায় তিনি নানামুখী সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকা সরকারি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণ ব্যবস্থাকে শতভাগ ডিজিটালাইজড ও দালালচক্র মুক্ত করেছেন তিনি। ফলে প্রকৃত দুস্থরা কোনো প্রকার হয়রানি বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই সরাসরি তাদের প্রাপ্য বুঝে পাচ্ছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা শীতকালীন তীব্র শৈত্যপ্রবাহে অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গভীর রাতেও ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে হাজির হতে দেখা গেছে এই মানবদরদী চেয়ারম্যানকে।
এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ছোটখাটো কোন্দল নিরসনে জাবরহাট ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে তিনি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষকে এখন আর সামান্য কারণে থানা-পুলিশ বা আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না।
ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে জাবরহাটের একাধিক প্রবীণ ও সাধারণ নাগরিক স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আগের চেয়ারম্যানদের আমরা বিপদে-আপদে পাশে পাইনি। কিন্তু জিয়াউর রহমান চেয়ারম্যান হওয়ার পর আমাদের ইউনিয়নের রূপ পাল্টে গেছে। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করছেন। বিগত চেয়ারম্যানদের তুলনায় তিনি আমাদের অনেক বেশি উন্নয়ন দিয়েছেন।”
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এখনই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। সাধারণ জনগণের দাবি— ইউনিয়নের চলমান এই ব্যাপক উন্নয়নের ধারাকে টেকসই করতে এবং জাবরহাটকে একটি আদর্শ আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে আগামীতেও মো: জিয়াউর রহমানের কোনো বিকল্প নেই। ভোটারদের বিশ্বাস, তিনি ভবিষ্যতেও নির্বাচিত হলে বর্তমানের চেয়ে আরও দ্বিগুণ গতিতে জাবরহাটের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।